সিলেট

লুটপাটে বিলীনের পথে সিলেটের ‘সাদা পাথর’: প্রশাসনের উদাসীনতা, রাজনৈতিক অরাজকতা

11681_88364021_216459253074476_5687902658417917952_n.jpg

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাদা পাথর বর্তমানে মারাত্মক সংকটে পড়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এখানে চলছে অবাধ পাথর লুটপাট, যা এক বছরে প্রায় এক কোটি পঞ্চাশ লাখ ঘনফুট পাথর বিলীন করে দিয়েছে। এসব পাথরের বাজারমূল্য দুই শত কোটি টাকারও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, বিএনপি ও যুবদলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কিছু নেতাকর্মীর নেতৃত্বেই এই লুটপাট পরিচালিত হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তারা প্রতিদিন হাজার হাজার শ্রমিক দিয়ে পাথর উত্তোলন করছে। এদের বড় অংশই স্থানীয় নয়; অনেকেই সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ থেকে আনা শ্রমিক।

অভিযান চালালেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মোবাইল কোর্টের অভিযান সাময়িকভাবে লুটপাট কমালেও কয়েকদিন পরই আবার শুরু হয় আগের মতো। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিজিবি, পুলিশ ও প্রশাসন অনেক সময় কেবল দেখেই যাচ্ছে, কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ইতিমধ্যে পুলিশ অন্তত ১৫টি মামলা দায়ের করেছে এবং ৭০ জনকে গ্রেফতার করেছে, কিন্তু মূল সিন্ডিকেট অক্ষত রয়ে গেছে।

এদিকে, দলীয় নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও পাথর ব্যবসায়ী হাজি সাহাব উদ্দিনকে পদ থেকে স্থগিত করা হয়েছে। তবুও সিন্ডিকেটের কার্যক্রম থামছে না। পরিবেশবিদরা বলছেন, এভাবে পাথর উত্তোলন চলতে থাকলে ভোলাগঞ্জের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যাবে। পর্যটকরা এখন নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং ধ্বংসযজ্ঞ দেখে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সামাজিক মাধ্যমে এবং সরাসরি মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভা ও অনলাইন প্রচারণার মাধ্যমে এই লুটপাট বন্ধের দাবি উঠেছে। কিন্তু স্থায়ী সমাধান না এলে ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর হয়তো ইতিহাসের পাতায় শুধু স্মৃতিচিহ্ন হয়ে থাকবে।

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও