ব্রিটেনের রাজনৈতিক দল রিফর্ম ইউকে ঘোষণা করেছে, তারা ক্ষমতায় এলে আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অভিবাসী ফেরত চুক্তি করতে আর্থিক সহায়তা দেবে। দলের নেতা নাইজেল ফারাজ লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলনে “অপারেশন রিস্টোরিং জাস্টিস” নামের একটি পাঁচ বছরের পরিকল্পনা প্রকাশ করেন।
এই পরিকল্পনার আওতায়, ছোট নৌকায় আসা যেকোনো অভিবাসীকে আশ্রয়ের আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হবে না। বরং তাদের আটক করে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। এ লক্ষ্যে রিফর্ম ইউকে ২ বিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। চুক্তি করতে আগ্রহী দেশগুলোকে অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়া হবে, আর যারা অস্বীকৃতি জানাবে তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
ফারাজ বলেন, “অবৈধ অভিবাসন যুক্তরাজ্যের জন্য এক ধরনের অভিশাপ। আমরা সবাইকে আটক ও ফেরত পাঠাতে শুরু করলে কয়েক দিনের মধ্যেই নৌকা আসা বন্ধ হয়ে যাবে।” তিনি দাবি করেন, তার সরকার ক্ষমতায় এলে পাঁচ বছরে প্রায় ছয় লাখ অভিবাসীকে ফেরত পাঠানো সম্ভব।
পরিকল্পনায় বলা হয়েছে,
আটককৃতদের পুরনো বিমানঘাঁটিতে রাখা হবে।
১৮ মাসে প্রায় ২৪ হাজার আসনবিশিষ্ট ডিটেনশন সেন্টার নির্মাণ করা হবে।
প্রতিদিন পাঁচটি চার্টার ফ্লাইটে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো হবে।
যারা স্বেচ্ছায় ফিরতে চাইবে তাদেরকে ২,৫০০ পাউন্ড দেওয়া হবে।
এটি বাস্তবায়নে একটি নতুন আইন “ইলিগ্যাল মাইগ্রেশন (মাস ডিপোর্টেশন) বিল” আনা হবে। বিলটিতে আন্তর্জাতিক আশ্রয় সংক্রান্ত চুক্তি ও ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশন (ECHR) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধীরা তীব্র সমালোচনা করেছে। লেবার পার্টি একে “অবাস্তব” বলে আখ্যা দিয়েছে। কনজারভেটিভ পার্টি অভিযোগ করেছে, রিফর্ম ইউকে মূলত তাদের পুরনো পরিকল্পনাকেই নতুন করে উপস্থাপন করেছে। লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা একে “ফাঁপা প্রতিশ্রুতি” বলে আখ্যায়িত করেছে।
এদিকে, ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়া অভিবাসীর সংখ্যা এ বছর রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ২৮,২৮৮ জন এভাবে ব্রিটেনে প্রবেশ করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪৬% বেশি।