ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা শনিবার নিশ্চিত করেছে, তাদের প্রধানমন্ত্রী ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। গাজা যুদ্ধ চলাকালে ধারাবাহিক হামলায় এটাই সবচেয়ে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার মৃত্যু।
গত বছর নিয়োগ পাওয়া আহমেদ গালেব নাসের আল-রাহাবি বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি হামলায় অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিহত হন বলে ইরান সমর্থিত হুতি জানিয়েছে। হুতির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা যোদ্ধা আহমেদ গালেব নাসের আল-রাহাবির মৃত্যু ঘোষণা করছি...তার সঙ্গে মন্ত্রিসভার কয়েকজন সহকর্মীও নিহত হয়েছেন।
তারা বিশ্বাসঘাতক ইসরায়েলি অপরাধী শত্রুর হামলার শিকার।’
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ‘তাদের আরো কয়েকজন সঙ্গী মাঝারি থেকে গুরুতর আহত হয়েছেন এবং বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।’
এর আগে ইসরায়েলি বাহিনী বৃহস্পতিবার জানিয়েছিল, তারা ‘একটি হুতি সন্ত্রাসী শাসনের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে’। তবে ইয়েমেনি গণমাধ্যমে রাহাবির মৃত্যুর খবর তখনো নিশ্চিত করা হয়নি।
হুতি বলেছে, যে সমাবেশে হামলা চালানো হয়েছিল, সেটি ছিল ‘সরকারের বার্ষিক কার্যক্রম ও কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের একটি নিয়মিত কর্মশালা’।
ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো এবং লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল কয়েক মাস ধরে হুতির ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইয়েমেন বিশ্লেষক মোহাম্মদ আল বাশা বলেছেন, ইসরায়েলের এ অভিযান একটি কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগে যেখানে বন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছিল, এবার তা থেকে সরে এসে উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হচ্ছে।
বাশা রিপোর্টের লেখক আরো বলেন, ‘এটি এমন একটি ধাপের উত্থান, যা চূড়ান্ত হতাহতের সংখ্যা যা-ই হোক না কেন, হুতি নেতৃত্বের ভিত কাঁপিয়ে দেওয়ার মতো। এ অভিযানের ধরন গোয়েন্দা তথ্য নির্ভর হামলার বৈশিষ্ট্য বহন করছে এবং সম্ভবত অন্যান্য জ্যেষ্ঠ হুতি নেতারাও ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে ছিলেন।’
রাহাবি সর্বশেষ বুধবার সানায় হুতি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক আয়োজনে প্রকাশ্যে উপস্থিত হয়েছিলেন। রাহাবির মৃত্যুর পর উপপ্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আহমেদ মিফতাহকে ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে হুতি।
আহমেদ গালেব নাসের আল-রাহাবি দক্ষিণাঞ্চলীয় আবইয়ান প্রদেশ থেকে উঠে এসেছিলেন, যা হুতির নিয়ন্ত্রণাধীন বিশাল এলাকার অংশ নয়।
দক্ষিণাঞ্চলে প্রভাব বাড়ানোর কৌশল হিসেবে হুতি সাধারণত প্রধানমন্ত্রী পদে দক্ষিণের নেতাদের নিয়োগ দিয়ে আসছে। এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী ইরানের তথাকথিত অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স বা প্রতিরধ অক্ষের অংশ, যা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে সক্রিয় ইসরায়েলবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীর জোট।