আইন- আদালত

শেখ হাসিনা-কামালের ফাঁসির রায় প্রকাশ

13577_IMG_0204.jpeg

জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান দমনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে দেওয়া আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের রায়ে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা পাঁচটি অভিযোগের ভিত্তিতে দুটি সুনির্দিষ্ট অপরাধের বিশদ বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে এই রায় প্রকাশ করা হয়।

এর আগে, গত ১৭ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড ও আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেন। একই সঙ্গে দেশে থাকা তাদের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া মামলায় রাজসাক্ষী হওয়ায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায়ে সুনির্দিষ্ট দুটি অপরাধের অধীনে মোট ছয়টি ‘কাউন্ট’ বা ঘটনার উল্লেখ করেছেন আদালত। এক নম্বর অভিযোগে তিনটি ঘটনার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনের সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকার’ বলে শেখ হাসিনার দেওয়া উসকানিমূলক বক্তব্য। দ্বিতীয়ত, ওই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য মাকসুদ কামালের সঙ্গে ফোনালাপে আন্দোলনকারীদের ‘ফাঁসি দেওয়ার’ উসকানি ও নির্দেশ। 

রায়ে বলা হয়েছে, অধস্তনদের এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে আসামিরা কোনো বাধা দেননি। তৃতীয়ত, এসব উসকানি ও নির্দেশের ধারাবাহিকতায় রংপুরে আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই অপরাধগুলোর জন্য শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায়ের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এসব কথোপকথনে ড্রোনের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের অবস্থান নির্ণয় এবং হেলিকপ্টার ও মারণাস্ত্র ব্যবহার করে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। এরই জেরে ৫ আগস্ট চানখারপুলে ছয় জন আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ। এ ছাড়া একই দিন সাভারের আশুলিয়ায় ছয় জনকে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার মতো নৃশংস ঘটনা ঘটে। এই অপরাধগুলোর গুরুত্ব বিবেচনা করে আদালত আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও