রাজনীতি

বাঁশের লাঠিতে তেল মাখিয়ে রাখতে বলা সেই জামায়াত প্রার্থীকে শোকজ

13639_IMG_0542.jpeg

চুয়াডাঙ্গায় উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. রুহুল আমিনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। আগামী ১৯ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টায় কমিটির কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত বক্তব্য বা ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাকে।চুয়াডাঙ্গা-২ (দামুড়হুদা, জীবননগর ও সদর উপজেলার একাংশ) আসনের নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির প্রধান এবং জীবননগর সিভিল জজ আদালতের বিচারক নাসির হুসাইন গত মঙ্গলবার এ নোটিশ জারি করেন।

জানা গেছে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ১২ জানুয়ারি দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গায় জামায়াতের এক দলীয় কর্মশালায় বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট মো. রুহুল আমিন।

বক্তব্যে রুহুল আমিন ভোটের আগে বাঁশে তেল মাখিয়ে সংরক্ষণ ও প্রয়োজনে ব্যবহার করার নির্দেশনা দিয়েছেন, যা নির্বাচনি আচরণবিধিমালার পরিপন্থি। ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

তার বক্তব্যকে উসকানিমূলক ও নির্বাচনি আচরণবিধি পরিপন্থি দাবি করে একই দিন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবুর প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট এমএ সবুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বিষয়টি নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটিকে অবহিত করা হয়।

অভিযোগের সঙ্গে পেনড্রাইভে বক্তব্যের ভিডিও সংযুক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। পরবর্তীতে ভিডিও ও অভিযোগ পর্যালোচনা করে বিচারিক কমিটি প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

কমিটির মতে, এটি রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালার  সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ অবস্থায় কেন তার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে সুপারিশসহ প্রতিবেদন পাঠানো হবে না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্ধারিত তারিখে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. রুহুল আমিন যুগান্তরকে মোবাইল ফোনে বলেন, ১২ জানুয়ারির বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভোট চুরি প্রতিরোধ করা। তিনি বলেন, আমরা ভোট চুরি করব না, কাউকে করতেও দেব না। যারা ভোট চুরি করতে আসবে, তাদের প্রশাসনের পাশাপাশি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করতে হবে এবং ভোট কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। সে কথাই আমি বলেছি। এটি কাউকে ভয় দেখানোর জন্য নয়, বরং সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন নিশ্চিত করার একটি পরিকল্পনার অংশ মাত্র।

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও