
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর একাদশ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে ৪৫ বছর বয়সে মারা যান তিনি। ২৮ জানুয়ারি তাকে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
আরাফাত রহমান ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ১২ আগস্ট কুমিল্লা সেনানিবাসে জন্মগ্রহণ করেন। কিংবদন্তী প্যালেস্টাইনি নেতা ইয়াসের আরাফতের নামে জিয়া দম্পতি নামকরণ করেছিলেন তাঁদের কনিষ্ঠপুত্রের। রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম হলেও তিনি রাজনীতিক হিসেবে নয়, একজন ব্যবসায়ী এবং ক্রীড়াবিদ হিসেবেই বেশি পরিচিত ছিলেন। ব্যবসা, ক্রীড়া ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেই নিজেকে সর্বদা নিয়োজিত রেখেছিলেন কোকো। একজন প্রেসিডেন্ট ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সন্তান হয়েও তার মধ্যে ছিল না কোনো অহংকার। জীবনযাপন করতেন সাধারণ মানুষের মতো। আরাফাত রহমান কোকো মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালেও খুবই সাদাসিধে জীবনযাপন করতেন। একটি দুই বেডের ভাড়া বাসায় স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে থাকতেন। নিজেই প্রতিদিন দুই মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যেতেন এবং নিয়ে আসতেন। বিনয়ী ও প্রচারবিমুখ কোকোর চরম শত্রুরাও তার ব্যক্তি চরিত্রের কোনো ত্রুটির কথা বলতে পারবেন না।
ক্রিকেটপ্রেমী হিসেবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে তিনি ছুটে বেড়িয়েছিলেন শহর থেকে গ্রামে। জাতীয় পর্যায়ে খেলোয়াড় তৈরি করার জন্য ক্রিকেটকে জেলা থেকে শুরু করে উপজেলা-গ্রাম পর্যায়ে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। এ ছাড়া তিনি মোহামেডান ক্লাবের এক্সিকিউটিভ কমিটির কালচারাল সেক্রেটারি ছিলেন। বিসিবির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর ক্রিকেটের অনেক উন্নয়ন করেছেন কোকো। বস্তুত, কোকোর হাত ধরেই গড়ে উঠেছিলো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সংগঠন। খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রিত্বের দ্বিতীয় দফায় ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মাধ্যমে ক্রিকেটের জন্য বরাদ্দ করিয়েছিলেন তিনি। দেশের মানুষ রাজনীতির কারণে খালেদা জিয়ার পাশাপাশি তার বড় ছেলে তারেক রহমানের নাম জানলেও আরাফাত রহমান কোকোর নাম খুব বেশি জানত না। ১/১১-এর সেনাসমর্থিত মঈন-ফখরুদ্দীন সরকারের সময় মা খালেদা জিয়ার সঙ্গে ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দের ৩ সেপ্টেম্বর গ্রেফতারের পর থেকে তার সম্পর্কে মানুষ বেশি জানতে পারে।
রিমান্ডে নিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রচণ্ড নির্যাতন করে কোকোকে পঙ্গু করা হয়। নির্যাতনের ফলে তার হৃদযন্ত্রে সমস্যা দেখা দেয়। সেই সময় থেকেই তিনি হৃদযন্ত্রের সমস্যায় ভুগছিলেন। ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ জুলাই জামিনে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য সপরিবারে থাইল্যান্ডে যান কোকো। সেখান থেকে তিনি মালয়েশিয়ায় চলে যান। এরপর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি স্ত্রী ও দুই মেয়েসহ মালয়েশিয়ায়ই অবস্থান করছিলেন।