রাজনীতি

ক্ষমতায় গেলে কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে : তারেক রহমান

13862_IMG_1576.jpeg

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘উত্তরাঞ্চল মূলত কৃষিনির্ভর এলাকা। কৃষক ভালো থাকলে দেশও ভালো থাকবে। সে কারণে কৃষকদের সহায়তায় প্রত্যেক কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে সার, বীজ, কীটনাশক ও ব্যাংক ঋণসহ সরকারি সুবিধা সরাসরি কৃষকের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। সরকার গঠন করতে পারলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ করতে পারলে রাজশাহী, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ পুরো উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান আমূল পরিবর্তন হবে।

তিনি বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বরেন্দ্র অঞ্চল থেকে শুরু করে ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় পর্যন্ত কৃষকরা এর সুফল পাবেন। একই সঙ্গে শহীদ জিয়ার খাল খনন কর্মসূচিসহ পুরোনো উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো নতুন করে চালু করা হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীর আমচাষিদের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই অঞ্চলে আম সংরক্ষণের জন্য কোনো আধুনিক হিমাগার নেই। কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে এবং আম দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য এই এলাকায় হিমাগার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে কৃষিভিত্তিক মিল-ফ্যাক্টরি ও শিল্পকারখানা স্থাপনে উদ্যোক্তাদের বিশেষ সহায়তা দেওয়া হবে, যাতে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।

রাজশাহীর আইটি পার্ক কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এখানে শিক্ষিত ও উচ্চশিক্ষিত অনেক তরুণ-তরুণী থাকলেও কাজের সুযোগ নেই। আইটি পার্ক সচল করে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। পাশাপাশি ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট স্থাপনের মাধ্যমে তরুণ ও নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ শ্রমশক্তিতে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

 

 

নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে প্রত্যেক মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা দেন তারেক রহমান।

 

 

তিনি বলেন, দল-মত নির্বিশেষে প্রত্যেক মা এই কার্ড পাবেন এবং এর মাধ্যমে সরকার থেকে ন্যূনতম আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা হবে, যাতে তারা সংসারের চাপ সামলাতে পারেন।

 

 

চিকিৎসার জন্য প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষ বিদেশে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অপচয় হচ্ছে। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে রাজশাহীতে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দেশের মানুষ দেশেই উন্নত চিকিৎসা সেবা পেতে পারে।

 

 

বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, বিগত ১৬-১৭ বছরে দেশের মানুষের ভোটের অধিকার ও গণতন্ত্র কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সবাইকে সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গণতন্ত্র শক্তিশালী না হলে জনগণের জন্য কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

 

 

তিনি আরও বলেন, বিএনপি শান্তিতে বিশ্বাস করে এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষকে নিয়ে একটি গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে চায়। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান— সবাই একসঙ্গে বসবাস করবে, এটাই দেশের মানুষের চাওয়া। জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে নির্বাচনের পর জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ধাপে ধাপে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষক ও নারীদের সহায়তা এবং উন্নয়নমূলক কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

 

সভায় রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুন সভাপতি করেন। জনসভায় রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১৩টি সংসদীয় আসনের বিএনপির ধানের প্রার্থী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও