
মিনহাজ হোসেন বিশেষ প্রতিনিধি: ইতালিতে বসবাসরত শাহীন খলিল কাউসার, জি-টিভি ইতালির প্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কণ্ঠস্বর হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি ইতালিতে সফলভাবে নিজস্ব ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করছেন এবং বাংলা কমিউনিটির বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।
এই সফল প্রবাসীর ছোট কন্যা শাওরিন কাউসার মিম, যিনি ইতালিতেই জন্মগ্রহণ করেছেন, ইতালির স্কুল কলেজের পাঠ চুকিয়ে স্কলারশিপ নিয়ে চলে আসেন লন্ডনে। কিংস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে ২০২৪ এ এরোনটিক্যলা ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনা করে সফলতার সাথে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের স্বনামধন্য কিংস্টোন ইউনিভার্সিটি, লন্ডন থেকে সফলভাবে মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন।
এই অর্জনকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আয়োজন করে এক বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা ও সার্টিফিকেট প্রদান অনুষ্ঠান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের খ্যাতনামা দার্শনিক, অধ্যাপক, বুদ্ধিজীবী, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী এবং তাঁদের অভিভাবকরা।
এই গর্বের মুহূর্তে উপস্থিত ছিলেন শাওরিন কাউসার মীমের বাবা শাহীন খলিল কাউসার এবং মা আখি সিমা কাউসার সহ বড় বোন সাদমা কাউসার পূর্ণিতা এবং ছোট ভাই সাদমান কাউসার আরিয়ান ।
মেয়ের এই সাফল্যে তাঁরা আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন, চোখে ছিল আনন্দের অশ্রু, মুখে ছিল তৃপ্তির হাসি। একজন অভিভাবকের জন্য সন্তানের এমন অর্জন নিঃসন্দেহে জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে সদ্য মাস্টার্স সম্পন্ন শিক্ষার্থী শাওরিন কাউসার মিম দৃঢ় কণ্ঠে জানান, তিনি আগামী দিনে পিএইচডি (PhD) সম্পন্ন করতে চান এবং গবেষণার মাধ্যমে বিশ্বমানের জ্ঞানচর্চায় নিজেকে যুক্ত করতে আগ্রহী।
বর্তমানে তিনি লন্ডনে এরোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন, যা তাঁর মেধা, অধ্যবসায় ও আন্তর্জাতিক মানের যোগ্যতারই প্রমাণ।
শাওরিন কাউসার মিমের এই যাত্রা প্রমাণ করে, বাংলাদেশি সন্তানরা পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে থেকেও সঠিক দিকনির্দেশনা, পারিবারিক সমর্থন, কঠোর পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারে।
এই গল্পটি শুধু একটি পরিবারের সাফল্যের গল্প নয়, এটি বাংলাদেশের হাজারো শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য একটি অনুপ্রেরণার বার্তা। সন্তানদের স্বপ্ন দেখতে দিন, তাদের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ান, নৈতিকতা ও শিক্ষার মূল্যবোধ শেখান, ইনশাআল্লাহ, সাফল্য একদিন ধরা দেবেই।
বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশি পরিচয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা এমন প্রতিটি সাফল্য আমাদের আগামী প্রজন্মের পথচলাকে আরও আলোকিত করে