
অধিকৃত পশ্চিম তীরে বিতর্কিত ই ওয়ান (E1) বসতি প্রকল্পের অগ্রগতি ঠেকাতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাজ্য। এ উদ্যোগে ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশও যুক্ত রয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ১৩৭ জন সংসদ সদস্য সরকারকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম তীরের জেরুজালেম ও মা'আলে আদুমিমের মধ্যবর্তী এলাকায় তিন হাজারের বেশি নতুন আবাসন নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে পশ্চিমা দেশগুলোর। সমালোচকদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীর কার্যত উত্তর ও দক্ষিণ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যাবে এবং স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা আরও সংকুচিত হবে।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়াসহ নয়টি দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে বসতি সম্পর্কিত সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানায় এবং E1 প্রকল্পে কোনো কোম্পানিকে অংশ না নেওয়ার পরামর্শ দেয়। তারা সতর্ক করে জানায়, এ ধরনের প্রকল্প আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল এবং এতে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলো আইনি ও সুনামগত ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এদিকে লেবার পার্টির ১৩৭ জন এমপি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপারের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা এবং জোরপূর্বক উচ্ছেদের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা অবৈধ ইসরায়েলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধসহ “জরুরি ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ” গ্রহণের আহ্বান জানান।
চিঠিতে বলা হয়, অধিকৃত পশ্চিম তীরের খান আল-আহমার অঞ্চলের ফিলিস্তিনি বেদুইন সম্প্রদায় বর্তমানে উচ্ছেদ, ভূমি দখল ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার মুখোমুখি। এমপিদের মতে, E1 পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে।
লেবার এমপি মেলানি ওয়ার্ড বলেন, অবৈধ বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করা হলে ইসরায়েলকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া সম্ভব হবে যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এসব বসতি মেনে নেয় না এবং এগুলোর কোনো টেকসই অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নেই।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) তৃতীয় পক্ষের রাষ্ট্রগুলোকে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড সম্পর্কিত বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দিয়েছে। এমপিদের দাবি, যুক্তরাজ্যের বিদ্যমান আইন ও নীতিমালার আওতায়ই অবৈধভাবে অধিকৃত অঞ্চলগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য সীমিত করার নজির রয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য যে নতুন নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ ঘোষণা করতে যাচ্ছে, তাতে E1 প্রকল্পে জড়িত কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতায় সহায়তাকারী ব্যক্তি ও সংগঠনগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। তবে অবৈধ বসতিগুলোর সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্য নিষিদ্ধ করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
অন্যদিকে ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ E1 প্রকল্পকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, এই উদ্যোগ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ধারণাকে সমাহিত করবে এবং এটি ইসরায়েলি সার্বভৌমত্বকে আরও শক্তিশালী করবে।
এদিকে গাজা পরিস্থিতি নিয়েও কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। মিসরের রাজধানী কায়রোতে হামাস ও মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক চলছে। হামাস জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান বন্ধ না হলে কোনো ধরনের অগ্রগতি সম্ভব নয়।