
প্রতিষ্ঠার দুই দশক পর প্রথমবারের মতো আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই নির্বাচন ঘিরে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।
নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা হাসান জানান, মঙ্গলবার সকালে ভোট শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে রাতে ব্যালট পেপার পাঠানো হবে। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। ভোটগ্রহণ শেষে ডিজিটাল ওএমআর (অপটিক্যাল মার্ক রিডার) মেশিনের মাধ্যমে ভোটগণনা করা হবে।
এদিকে, নির্বাচনকে সামনে রেখে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস নিরাপত্তা চাদরে ঘিরে রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা টহল দিচ্ছেন। এছাড়া ক্যাম্পাস এলাকার আশপাশজুড়ে সর্বসাধারণ ও যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রাথমিক তালিকা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সংসদের বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র সম্পাদক পদে চার জন, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক পদে নয় জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে পাঁচজনসহ মোট ৫৭ জন প্রার্থী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
অন্যদিকে, ছাত্রী হল সংসদে ১৩টি পদের বিপরীতে বিভিন্ন পদে মোট ৩৩ জন প্রার্থীর প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
মোট ৩৪টি পদে লড়বেন ১৯০ জন প্রার্থী। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদে ১৫৭ জন এবং হল শিক্ষার্থী সংসদে ৩৩ জন প্রার্থী প্রথমবারের মতো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জকসু নির্বাচনে মোট ভোটার কেন্দ্রীয় সংসদে ১৬ হাজার ৭৩৫ জন এবং হল শিক্ষার্থী সংসদে এক হাজার ২৪৭ জন।
এছাড়া জকসু নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ৩৮টি এবং হল সংসদের জন্য একটি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচনে প্রতি ১০০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একটি করে ভোটগ্রহণ বুথ থাকবে।
নিরাপত্তা প্রসঙ্গে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়সাল আহমেদ বলেন, “নির্বাচনের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আশঙ্কা নেই। ক্যাম্পাসের আশপাশে বিশেষ ফোর্স মোতায়েনসহ সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হয়েছে।”
নির্বাচনের সার্বিক বিষয়ে জকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, “নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পুরো ক্যাম্পাস ঘিরে রাখা হয়েছে। নির্বাচন বানচাল বা বন্ধ করার আর কোনও সুযোগ নেই।”
জকসু নির্বাচন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম বলেন, “জকসু নির্বাচন ঘিরে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রশাসন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচনের বিষয়ে আশাবাদী। আশা করছি, নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীরা ভোট দিতে আসবে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে।”
উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর জকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। পরে ৬ জানুয়ারি নির্বাচনের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।