
শঙ্কাই সত্যি হতে যাচ্ছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ সরে দাঁড়ানোর পর থেকেই কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে দর্শক সঙ্কটের আভাস পাওয়া যাচ্ছিল। পশ্চিমবঙ্গের দৈনিক আনন্দবাজারের খবর, আসন্ন বিশ্বকাপের টিকিট ইডেনের স্ট্যান্ড থেকে বিক্রিই হচ্ছে না। সেখানে টিকিটের জন্য লাইনে চার-পাঁচ জনের বেশি মানুষই নেই!
সব ঠিকঠাক থাকলে, এই ইডেন গার্ডেনসে বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের তিনটি ম্যাচ খেলার কথা ছিল বাংলাদেশের। তবে অনেক নাটকীয়তার পর শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের দাবি মেনে নেয়নি ইন্ট্যারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। টাইগারদের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করেছে বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। তবে এরপর থেকে কলকাতায় টিকিটই কিনছে না দর্শকরা। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সামনে বিশ্বকাপের অফলাইন টিকিটের স্টল বসানো হয়েছে। আনন্দবাজার জানিয়েছে, সেখানে হাতে গুনে ছয় জনের বেশি দেখা যায়নি।ইডেনে সব মিলিয়ে আসন সংখ্যা ৬৫ হাজার। অথচ সব ম্যাচ মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ২১ হাজার টিকিটও বিক্রি হয়নি বলে জানা গেছে। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিন মুখোমুখি হওয়ার কথা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও স্কটল্যান্ডের। সে ম্যাচের টিকিট বিক্রি হয়েছে কেবল ২৯১৭টি। এর দু’দিন পরের স্কটল্যান্ড-ইতালি ম্যাচের টিকি বিক্রি হয়েছে স্রেফ মাত্র ৩৪৮টি। ১৪ই ফেব্রুয়ারির ইংল্যান্ড-স্কটল্যান্ড ম্যাচের টিকিট কিনেছেন ২০৭৫ জন দর্শক। ১৬ই ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ড-ইতালি ম্যাচে টিকিট বিক্রি হয়েছে তুলনামূলক কিছুটা বেশি, ৪৯৭০টি। প্রতিবেদনটি প্রকাশের আগ পর্যন্ত ১৯শে ফেব্রুয়ারির ওয়েস্ট ইন্ডিজ-ইতালির ম্যাচের টিকিট বিক্রি হয় ১২৪৮টি।
এখানের সুপার এইট এবং সেমিফাইনাল মিলিয়ে মোট বিক্রি টিকিটের সংখ্যা ৯০০০। গ্রুপ পর্বে ইডেনে ভারতের কোনো ম্যাচ নেই। দর্শকদের যে আগ্রহ ছিল, বাংলাদেশ না যাওয়ায় সেটিও চলে গেছে বলে মনে করছেন অনেকে। অবশ্য ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের (সিএবি) কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। ম্যাচ আয়োজন করার জন্য যে মূল্য তারা পাচ্ছে, তাতেই খরচ উঠে আসছে। দর্শকদের মাঠে টানতে কিংবা আগ্রহ বাড়াতে আলাদা কিছু করাও হচ্ছে না। বিশ্বকাপের চেয়ে বরং ঘরোয়া লীগ ম্যাচ ঘিরে এখানে চর্চা অনেকটা বেশি হচ্ছে।