
ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচার ও খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে যাওয়ার সময় সংগঠনটির নেতাকর্মীদের ওপর সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে পুলিশ।
এছাড়া জলকামান ব্যবহার এবং লাঠিচার্জের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ। এতে শাহবাগ, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, কাকরাইল ও পরিবাগ এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
তবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত ডাক্তারদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সর্বমোট ২৩ জন আহত হয়ে এসেছেন। তাদের সবাই মূলত পায়ের নিচের অংশে আঘাত পেয়ে এসেছেন, সম্ভবত লাঠির আঘাত। জাবের এর হাটুর ওপরে এবং নিচে একটি করে ক্ষতচিহ্ন আছে, তবে কোনোটাই ধারালো বা বুলেটের আঘাত নয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে শাহবাগ-ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে অবস্থানরত ছাত্ররা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে প্রথমে পুলিশ জলকামান দিয়ে পানি ছিটায়। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে দফায় দফায় টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে ছাত্ররা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা আবার সংগঠিত হয়ে পুলিশের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশও পাল্টা ধাওয়া দেয়।
সংঘর্ষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে শাহবাগ থেকে বাংলামোটর পর্যন্ত পুরো করিডরে। এতে শাহবাগ-ইন্টারকন্টিনেন্টাল-কাকরাইল সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আশপাশের দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দ্রুত শাটার নামিয়ে দেয়। সাধারণ মানুষ আতঙ্কে নিরাপদ আশ্রয় খোঁজে।
আহতদের কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নিকটবর্তী ক্লিনিকে নেওয়া হয়েছে। আন্দোলনকারীরা জানান, টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জে বহু শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন, কারও মাথা ফেটেছে, কেউ শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। আহতদের সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত না হলেও সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। কোনো ধরনের গুলির ঘটনা ঘটেনি। তিনি জানান, যমুনা ও আশপাশ এলাকা সংবেদনশীল হওয়ায় সেখানে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ রয়েছে।
যমুনা, কাকরাইল মসজিদ, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, শাহবাগ ও বাংলামোটর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি মোতায়েন রাখা হয়েছে। বিভিন্ন পয়েন্টে জলকামান প্রস্তুত রয়েছে এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচি চলছে। জাতিসংঘের অধীনে শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তারা এই কর্মসূচি পালন করছেন। আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না।