
বাংলাদেশের আলোচিত অর্থকেলেঙ্কারির অভিযুক্ত প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পিকে হালদারের বক্তব্যকে ঘিরে আবারও আলোচনায় এসেছে দেশের বড় রাজনৈতিক দল বিএনপির প্রধান তারেক রহমান ও বড় শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের মাঝে আর্থিক সম্পর্কের বিষয়টি। ভারতের সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (CBI) ও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর তদন্তে পিকে হালদার জবানবন্দি দিয়েছেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করছে। তাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও এস আলম গ্রুপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও আর্থিক লেনদেনের ইঙ্গিত উঠে এসেছে। এ সম্পর্কিত সিবিএই এর একটি রিপোর্ট প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
রিপোর্টের দাবি অনুযায়ী, পিকে হালদার জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি বিএনপির রাজনৈতিক ফান্ডে অর্থ সরবরাহ করতেন। তবে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি ও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিল্পগোষ্ঠীগুলোর বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক গভীর হয়। তার বক্তব্যে বিশেষভাবে উঠে আসে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলমের নাম।
সূত্র জানায়, পিকে হালদার দাবি করেছেন এস আলম গ্রুপের ভাই আবদুস সামাদ লাবু ও তারেক রহমানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এমনকি লন্ডনে তারেক রহমানের বসবাসরত বাসভবনটি এস আলম গ্রুপের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন বলে তদন্তসূত্রের ভাষ্য। এছাড়া, তারেক রহমানের ব্যক্তিগত খরচ বাবদ প্রতি মাসে প্রায় তিন লাখ মার্কিন ডলার ব্যয় করা হতো বলেও তিনি দাবি করেছেন।
পিকে হালদারের বক্তব্যে আরও বলা হয়েছে, এস আলম গ্রুপের রাজনৈতিক তহবিলের বড় একটি অংশ বিএনপি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য ব্যয় করা হতো। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই রাজনৈতিক যোগাযোগের কারণেই বিভিন্ন সময় এস আলম গ্রুপ তুলনামূলক সুবিধা পেয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, তারেক রহমানের মামা প্রয়াত শামীম ইস্কান্দার মজুমদারের সঙ্গে এস আলম গ্রুপের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। পিকে হালদারের দাবি অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরে একই ভবনে পাশাপাশি অ্যাপার্টমেন্টে বসবাসের মাধ্যমে তাদের পারিবারিক ও ব্যবসায়িক যোগাযোগ আরও দৃঢ় হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, পিকে হালদারের জবানবন্দিতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে দুর্নীতি সংক্রান্ত দায় থেকে মুক্তি পাওয়া এবং দেশে ও বিদেশে অর্জিত সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই রাজনৈতিকভাবে বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে এস আলম গ্রুপ উদ্যোগী হয়। এই প্রক্রিয়ায় পিকে হালদারকে একটি ‘মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেছেন।
তবে এ বিষয়ে বিএনপি, তারেক রহমান বা এস আলম গ্রুপের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি এসব অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে তা শুধু আর্থিক কেলেঙ্কারির পরিধি নয়, বাংলাদেশের রাজনীতি ও ব্যবসার সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলতে পারে।