বাংলাদেশ

সংসদ নির্বাচন ও গণভোট: প্রচার শেষ, সরকারে বিদায়ি সুর

14068_IMG_2636.jpeg

সন্দেহ-অবিশ্বাস আর আশা-নিরাশার দোলাচল কাটিয়ে অবশেষে বহু আকাঙ্ক্ষার ভোট। উৎসব-উচ্ছ্বাস-আনন্দে মাঠের প্রচারণা শেষ। কালকের দিন পার হলেই পরের দিন দেশবাসী ভোটকেন্দ্রে পছন্দের দল ও প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার প্রহর গুনছে। ফলে ভোট ঘিরে একদিকে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে যেমন উৎসবের আমেজ, অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে বিদায়ের সুর।

 

কেউ কেউ এরই মধ্যে চলে যাওয়ার আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছেন। কেউ কেউ প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিশেষ পরিস্থিতিতে ক্ষমতা নেওয়া ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের প্রাক্কালে তাঁরা গত দেড় বছরে কী কী স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, আর কতটুকু করে যেতে পেরেছেন—এসব নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। যদিও এ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠদের অনেকেই এখন সরকারের সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতার পাল্লাই ভারী বলে সমালোচনা করছেন।

 

এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন কমিটিতে থাকা ব্যক্তিরাও এখন প্রকাশ্যে সরকারের অংশ ছিলেন না বলে দাবি করছেন। বলতে গেলে বিদায়বেলায় অন্তর্বর্তী সরকার প্রায় অন্তর্বর্তী সরকার প্রায় একা। আর বিএনপি ও জামায়াত—এই বড় দুই দল নির্বাচন, ভোট এবং ভোট শেষে সরকার গঠনের পরিকল্পনায় ব্যস্ত। দল দুটির নেতারা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় শেষ সময়ের প্রচারণায় ব্যস্ত।ভোটের মাঠের পরিস্থিতি ও অন্তর্বর্তী সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

 

জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দল ও প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচার গতকাল সোমবার মধ্যরাতে শেষ হয়েছে; যদিও আজ সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রচারের সময় নির্ধারণ করা ছিল। গত ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর টানা প্রায় ২০ দিন উৎসবের আমেজে নির্বাচনী প্রচারে সরগরম ছিল সারা দেশ। আগামী বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ ও ভোটের ফলাফলের অপেক্ষা। কোন দল বা জোট সরকার গঠন করবে তা নিয়ে আলোচনা সর্বত্র।

শেষ দিনের প্রচারে গতকাল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজধানীর একাধিক স্থানে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন। সন্ধ্যার পর বিটিভিতে সম্প্রচারিত দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘বেকার সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে ব্যাংক, বীমা, পুঁজিবাজারসহ দেশের অর্থনৈতিক খাতের সার্বিক সংস্কার ও অঞ্চলভিত্তিক অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা এবং শিল্প ও বাণিজ্যে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশে-বিদেশে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে দেশব্যাপী কারিগরি ও ব্যাবহারিক শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে বেকার জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করা হবে।’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানও গতকাল রাজধানীতে কয়েকটি জনসভায় যোগ দেন এবং সন্ধ্যায় বিটিভিতে সম্প্রচারিত ভাষণে তিনি বলেন, ‘দেশকে বিভেদ ও বিভাজনের রাজনীতি থেকে বদলাতে চাই। দেশে শান্তি ফিরে আসুক। সবাইকে নিয়ে ঐক্যের বাংলাদেশ গড়তে চাই।’

নির্বাচন কমিশন গতকাল জানিয়ে দিয়েছে, ভোটগ্রহণ শুরুর পূর্ববর্তী ৪৮ ঘণ্টা ও ভোটগ্রহণ সমাপ্ত হওয়ার পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা অর্থাৎ আজ ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় কোনো জনসভা, মিছিল বা শোভাযাত্রা করা যাবে না।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব গতকাল সাংবাদিকদের জানান, আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার পর থেকে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ থাকবে। বড় আকারের মিছিল, সভা ও শোডাউন বন্ধ থাকবে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রচারণা বন্ধ রাখতে মনিটর করা হবে। এ জন্য কমিশনের একটি আলাদা সেল কাজ করছে।

আজ মধ্যরাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত ৭২ ঘণ্টা মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সাধারণ যানবাহন হিসেবে ট্যাক্সি ক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল বুধবার মধ্যরাত ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তবে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে যানবাহন বা মোটরসাইকেল চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।

এবারের নির্বাচনী কার্যক্রমে তুলনামূলকভাবে সহিংসতা কম থাকলেও আইন মানার ক্ষেত্রে শৈথিল্য দেখিয়েছেন অনেক প্রার্থী এবং তাঁদের সমর্থকরা। গত এক মাসে সারা দেশে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে ২৫৯টি মামলা দায়ের করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সর্বশেষ তিন দিনেও ছিল কড়া নজরদারি।

এদিকে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে নির্বাচনের এক সপ্তাহের মধ্যেই দায়িত্ব নেবে নির্বাচিত নতুন সরকার। ফলে এখন বিদায়ের সুর বাজছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে। এরই মধ্যে কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্ট ও সরকারি বাসা ছেড়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। আর শুধু লাল পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন আরো এক ডজনের বেশি উপদেষ্টা ও সরকারি কর্মকর্তা। উপদেষ্টাদের একান্ত সচিব (পিএস) এবং সহকারী একান্ত সচিবরাও (এপিএস) নিজ নিজ ব্যক্তিগত নথিপত্র গুছিয়ে নিয়েছেন।

উপদেষ্টাদের কেউ কেউ বলছেন, ‘যত দিন সরকারের দায়িত্বে থাকব তত দিন লাল পাসপোর্ট কাছেই রাখব। বিদায়বেলায় সরকারি সব জিনিসপত্রের সঙ্গে লাল পাসপোর্টও জমা দেব।’আবার অনেক উপদেষ্টা স্টাফদের মাধ্যমে ব্যক্তিগত নথি ও জিনিসপত্র এরই মধ্যে সরকারি দপ্তর থেকে বাসায় নিয়ে গেছেন। অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথিও সই হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে।

তাঁরা বলছেন, নতুন সরকার এলে যাতে দায়িত্ব হস্তান্তর সহজ হয় এবং সহজে সরকারের সবকিছু বুঝিয়ে দেওয়া যায়, এ জন্য সব প্রস্তুত করে রাখা হচ্ছে। এমনকি নতুন সরকার এলে কোনো রকম কালক্ষেপণ না করেই দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা। নির্বাচনের পর যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। গতকাল সচিবালয়ে বেশ কয়েকটি দপ্তর ঘুরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ঢিলেঢালা ভাব দেখা গেছে। কর্মচারীরা উপদেষ্টাদের বিদায় দেওয়ার জন্য তাঁদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গোছগাছ করছেন। কর্মকর্তারা নানা প্রকল্পের হিসাব মেলাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা তাঁদের সরকারি বাসভবন ও কূটনৈতিক পাসপোর্ট সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ফেরত দেওয়া শুরু করেছেন। এরই মধ্যে দুজন উপদেষ্টা তাঁদের সরকারি বাসা ছেড়ে দিয়েছেন। বাসাটি বুঝে নেওয়ার জন্য তাঁরা গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন। অন্যদিকে অন্তত ১৩ জন উপদেষ্টা ও চুক্তিতে নিয়োগ পাওয়া একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাঁদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান সরকারি বাসা ছাড়ার বিষয়ে চিঠি দিয়েছেন। আরো কয়েকজন উপদেষ্টাও আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সরকারি বাসা ছেড়ে দেবেন এবং কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেবেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা জানান, লাল পাসপোর্ট জমা দেওয়ার বিষয়টি হলো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অনাপত্তিপত্র নিয়ে নতুন পাসপোর্টের আবেদন করা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নতুন পাসপোর্ট হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কূটনৈতিক বা লাল পাসপোর্ট অকাযর্কর হয়। এরই মধ্যে নতুন পাসপোর্ট হাতে পেয়েছেন বা আবেদন করেছেন অন্তত ১৩ জন উপদেষ্টা। তাঁরা হলেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, মুক্তিযুদ্ধ ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, বাণিজ্য, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

এ ছাড়া লাল পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকা শারমীন এস মুরশিদ, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। এ ছাড়া পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমও তাঁর লাল পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। একাধিক উপদেষ্টার পিএস কালের কণ্ঠকে জানান, কোনো কোনো উপদেষ্টা এরই মধ্যে নতুন পাসপোর্ট হাতে পেয়েছেন। পাসপোর্ট পাওয়ার ‘হ্যাসল’ থেকে রক্ষা পেতেই মূলত তাঁরা নতুন পাসপোর্টের আবেদন করেন।

উপদেষ্টাদের অনেকে দায়িত্ব ছাড়ার পরই নতুন পাসপোর্ট নেবেন বলে কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন। ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, ‘নির্বাচনের পরই নতুন সরকার গঠিত হবে। আমাদের আর সময় নেই। তবে যে কয়েক দিন দায়িত্বে থাকব লাল পাসপোর্ট থাকবে। দায়িত্ব ছাড়ার পরে নতুন পাসপোর্ট নেব।’ পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাক‌মা দু-এক দিনের মধ্যে নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করবেন বলে তাঁর দপ্তর সূত্র কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছে। পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের সহকারী একান্ত সচিব কামরুন নাহার বলেন, ‘স্যার কূটনৈতিক পাসপোর্ট নেননি। সরকারি বাড়িও নেননি। তাই স্যারের এগুলো ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয় নেই। আর সম্পদের হিসাব স্যার এরই মধ্যে জমা দিয়েছেন।’

আবাসন পরিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, রেল, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, পরিবেশ ও তথ্য উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানও বাসা ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

এমন পরিস্থিতিতে সচিবালয়ের কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রশাসনিক কাজে এক ধরনের ‘তাড়াহুড়া’ লক্ষ করা গেছে। বিষয়টি নিয়ে নাম প্রকাশ না করে একাধিক উপদেষ্টার একান্ত সচিব (পিএস) প্রায় অভিন্ন ভাষায় কালের কণ্ঠকেম বলেন, ‘ভাই! উপদেষ্টা স্যাররা আর কদিনই বা আছেন? আমাদের এখন যাওয়ার সময় হয়েছে। যেকোনো সময় আমাদের চাকরি নট হয়ে যাবে! স্যার পদত্যাগ করলে আমাদেরও দায়িত্ব নেই। হয়তো অন্য কোথাও পদায়ন করবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। দোয়া করবেন ভাই।’

এদিকে নতুন রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার বিদায় নেবে। কিন্তু এরই মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের সাফল্য-ব্যর্থতার চুলচেরা বিশ্লেষণও শুরু হয়ে গেছে। বিভিন্ন মহল থেকে আলোচনা হচ্ছে, নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর টিম কতটা সফল হলেন গত দেড় বছরে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব ড. ইউনূসের টিমে স্বনামধন্য অর্থনীতিবিদই ছিলেন তিনজন। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন স্তরে আলোচনা হচ্ছে, ড. ইউনূস কি নিত্যপণ্যের দাম কমাতে পেরেছেন? পারেননি। মূল্যস্ফীতি লাগামহীন। তিনি কি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়েছেন? বাড়াননি। উল্টো প্রতিদিনই কোনো না কোনো কারখানা বন্ধ হয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের চাকরি গেছে। মব ভায়োলেন্স বন্ধ করতে পারেননি। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করতে পারেননি। ব্যবসায়ীদের ডেকে তাঁদের সমস্যা শোনেননি। ফলে আস্থাহীনতায় থাকা ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ করেননি। বিদেশি বিনিয়োগও আসেনি। রপ্তানি ও রাজস্ব আয়ে ভাটার টান। সুদের হার অনেক বেশি, কমাতে পারছেন না। আমদানি কমে যাওয়ায় ডলার সাশ্রয় হওয়ায় রিজার্ভ বাড়লেও ডলার যে অতিমূল্যায়িত হলো, সেটা আর সহনীয় করা যায়নি। কয়েকটি ব্যাংককে মার্জ করা এবং ‘দেউলিয়া’ হয়েছে বলে প্রচার করায় ব্যাংক খাতের ভাবমূর্তির সংকট হয়েছে। বিদেশ থেকে বিপুল অঙ্কের পাচারের টাকা ফেরত আনবেন বললেও এখনো আনতে পারেননি কোনো টাকা। বেশ কিছু খাতের সংস্কারের পদক্ষেপ নিলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি তেমন নেই। এ রকম আরো অনেক বিষয়ে ব্যাপক সাফল্য আসবে বলে আশা করা হলেও এখন শেষ সময়ে অর্জনের খাতা প্রায় শূন্য। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশও (টিআইবি) এরই মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতার পাল্লা ভারী বলে জানিয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও