
গত জানুয়ারিতে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানায় উপস্থিত হয়ে একজনকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিতে গিয়ে থানা পোড়ানো ও একজন পুলিশ সদস্যকে হত্যার দম্ভোক্তি করা মাহদী হাসান এখন ভারতের রাজধানীতে নয়াদিল্লিতে। বাংলাদেশ ছেড়ে ইউরোপের দেশ ফিনল্যান্ডে যেতে ভিসা আবেদন করতে তিনি দিল্লিতে গেছেন বলে জানা গেছে।
মাহদী হাসান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব। গত জানুয়ারিতে তিনি শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ কর্তৃক আটক করা এক ব্যক্তিকে ছাড়াতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা করে আলোচনায় আসেন। এরপর তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলে মব-এর চাপ ও তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হস্তক্ষেপে জামিনে মুক্তি পান।
গত ১ জানুয়ারি রাতে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি এনামুল হাসান নয়নকে আটক করে পুলিশ। নয়ন জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী দাবি করে পরের দিন দুপুরে তাকে ছাড়াতে থানায় গিয়ে পুলিশের সাথে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাহদীসহ কয়েকজন নেতা। তখন ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এ ঘটনার ওই ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, থানার ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সামনে বসে আছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কয়েকজন নেতাকর্মী। পুলিশের সাথে তারা উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করছেন। এসময় মাহদী হাসানকে বলতে শোনা যায়, ‘এই সরকার (মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার) আমাদের আন্দোলনের ফসল, এই গভমেন্ট আমরা গঠন করেছি। অথচ আপনি আমাদের ছেলেদের ধরে নিয়ে আসছেন। আবার এখন বার্গেনিং করছেন।’ ওই নেতা আরও বলেন, ‘এখানে (হবিগঞ্জে) ১৭ জন শহিদ হয়েছে। সবচেয়ে ক্রুশাল আন্দোলন যেসব জায়গায় হয়েছে সেখানে হবিগঞ্জ একটা। বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়াই দিছিলাম, এসআই সন্তোষকে জ্বালাই দিছিলাম। এখন কোন সাহসে তাদের ধরে নিয়ে আসা হলো আমি জানতে চাই’। আলোচিত সেই মাহদী হাসান পরের দিন গ্রেপ্তার হলে তার জামিন হয়ে যায় দ্রুতই।
এদিকে, মাহদী হাসান বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তার ভিডিও প্রকাশ হয়েছে ফেসবুকে। ফ্যাক্টচেকার অনলাইন পোর্টাল দ্য ডিসেন্ট এক প্রতিবেদনে জানায়, তার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা হয়েছে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির এবং পলাতক আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন একাউন্ট থেকে। এসব পোস্টে মাহদীর নাম পরিচয় উল্লেখ করে তাকে ‘জুলাইয়ের আত্মস্বীকৃত খুনি’ বলে প্রচার করা হচ্ছে এবং হুমকি দেয়া হচ্ছে। একই সাথে তার মোবাইলেও হুমকি আসছে বলে তিনি দ্য ডিসেন্ট-কে জানিয়েছেন।
মাহদী হাসান দ্য ডিসেন্ট-কে জানিয়েছেন, তিনি ফিনল্যান্ডে যাওয়ার জন্য ভিসা সংক্রান্ত কাজে দিল্লির ভিএফএস সেন্টারে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে আজ দুপুর ১টার দিকে বের হয়ে হোটেলে আসার পর তার মোবাইলে বিভিন্ন অপরিচিত নম্বর থেকে মেসেজ ও কল আসতে থাকে। এসব কল ও মেসেজ থেকে তিনি বুঝতে পারেন কেউ তার অজান্তে তার বর্তমান অবস্থান, মোবাইল নম্বর এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছে।
দ্য ডিসেন্ট ফেসবুক ও এক্স-এ সার্চ করে মাহদীকে নিয়ে শতাধিক পোস্ট পেয়েছে। বেশিরভাগ পোস্টেই একটি ভিডিও যুক্ত করা হয়েছে যেখানে দেখা যাচ্ছে, মাহদী একটি চেয়ারে বসে আছেন। ভিডিওটি মাহদীর পেছনে থাকা কেউ ধারণ করেছেন। মাহদী জানান, দৃশ্যটি আজ দুপুরে ধারণ করা যখন তিনি দিল্লীতে ভিএফএস সেন্টারে গিয়েছিলেন ভিসা সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দিতে। তবে তিনি জানেন না কে বা কারা ভিডিওটি ধারণ করেছে।
মাহদী বলেছেন, তিনি হোটেলে ফেরার পর এসব দেখে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
দিল্লিতে বাংলাদেশি হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে ফোন দিয়েছিল দ্য ডিসেন্ট, তবে ব্যস্ত থাকায় তার বক্তব্য তারা নিতে পারেনি।