বাংলাদেশ

মন্ত্রীদের চ্যালেঞ্জ বাড়াবে একাধিক মন্ত্রণালয়

14220_IMG_3885.jpeg

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত হওয়া মন্ত্রিপরিষদে একজন মন্ত্রীকে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করতে হবে। তালিকা অনুযায়ী, মোট ৯ জন মন্ত্রীকে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করতে হবে। এতে মন্ত্রীর চেয়ারে বসতে যাওয়া ব্যক্তিত্বের বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি পড়তে হবে। একাধিক বড় দপ্তর সামলানোর পাশাপাশি কর্ম বণ্টনে নিতে হবে শক্ত পরিকল্পনা। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমধর্মী ভিন্ন মন্ত্রণালয়কে একক মন্ত্রণালয় হিসেবে পুনর্গঠিত করলে সুফল মিলবে। সমধর্মী কিন্তু পৃথকভাবে কাঠামোবদ্ধ কয়েকটি মন্ত্রণালয় নিয়ে একজন মন্ত্রী চাপে থাকবেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমন্বয় করা যায় এমনসব মন্ত্রণালয় এক ছাতার নিচে থাকা ভালো লক্ষণ। এতে একক নেতৃত্বে কাজে সুফল ভালো মিলবে। কাজে গতিও আসবে। যেমন—অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বা শিক্ষা ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাজের ধরন কাছাকাছি। তাই একক নেতৃত্বে হলে তা সুশৃঙ্খল হবে। আবার যোগাযোগ খাতের তিন বড় মন্ত্রণালয় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়কে দেওয়া হয়েছে এক মন্ত্রী। একটা সময় এই তিন প্রতিষ্ঠান মিলে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় ছিল। এক ছাতায় কাজের বণ্টন সুবিধা হবে।

উল্টোদিকে ভিন্ন মতও রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মন্ত্রী একজন থাকলেও মন্ত্রণালয় এখনো একাধিক রয়ে গেছে। এতে দপ্তরভিত্তিক যে কাঠামো তা আগের মতোই থাকবে। সচিব আলাদা থাকবে। দপ্তরপ্রধান আলাদা থাকবে। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচি আলাদা থাকবে। শুধু মন্ত্রী এক থাকবেন। এর মধ্য দিয়ে মন্ত্রীর ওপর চাপ বাড়বে। তাকে একেক দিন একেক মন্ত্রণালয়ে অফিস করতে হবে। এক মন্ত্রীর অধীনে থাকা মন্ত্রণালয়গুলোর কর্মসূচি এককেন্দ্রিক না হলে সুফল মেলা কঠিন হবে। সরকার যদি কাজের সমন্বয়ের জন্য একক মন্ত্রীর তত্ত্বে গিয়ে থাকে, তাহলে মন্ত্রণালয়গুলো ভেঙে এক করা উচিত ছিল। যেমন—দুই মন্ত্রণালয় ভেঙে একটি ‘অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়’ এবং তিন মন্ত্রণালয় ভেঙে একটি ‘যোগাযোগ মন্ত্রণালয়’ করা যায়।

জানতে চাইলে সাবেক সচিব আওয়াল মজুমদার কালবেলাকে বলেন, ‘১৯৭২ সাল থেকে বেশিরভাগ মন্ত্রিপরিষদে একজন মন্ত্রীকে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। ব্যক্তি হিসেবে মন্ত্রী যদি যোগ্য হন, তাহলে এটা কঠিন কাজ নয়। এক্ষেত্রে শুরুতেই মন্ত্রণালয় চালানোর জন্য তার একটি শক্ত দল তৈরি করতে হবে। মন্ত্রী নির্দেশনা দেবেন, ভিশন দেখাবেন। মাঠের কাজ করবে তার নেতৃত্বাধীন দল।’

এবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ৪৯ জন। তাদের শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ঘোষিত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে তিনজন টেকনোক্র্যাট কোটায় জায়গা পেয়েছেন।

একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন যারা: অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় পাচ্ছেন আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির পেয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। আ ন ম এহছানুল হক মিলন পাচ্ছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এ ছাড়া সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন পাচ্ছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। ফকির মাহবুব আনাম পাচ্ছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। শেখ রবিউল আলম পাবেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়। আরিফুল হক চৌধুরী পাচ্ছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ পাচ্ছেন কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়।

 


 

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও