
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতের নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করে বলেছেন, বাংলাদেশের সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু আয়োজন থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত।
মঙ্গলবার নবান্নে সংবাদ সম্মেলনে মমতা বলেন, কয়েকদিন আগে বাংলাদেশে নির্বাচন হয়েছে। অনেকে আশঙ্কা করেছিলেন অশান্তি ও সহিংসতা হবে। কিন্তু তা হয়নি; বরং শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে ভোট সম্পন্ন হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ—এখানে নির্বাচন পরিচালনায় দুর্বলতা থাকলে তা কমিশনের জন্য লজ্জার বিষয়।
তিনি নির্বাচন কমিশনকে ‘তুঘলকি কমিশন’ বলে আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেন, কমিশন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নির্দেশে চলছে এবং ‘হুমকির রাজনীতি’ চালিয়ে গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তার ভাষায়, এমন আচরণ রাজতন্ত্রেও দেখা যায়নি এবং এটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য মারাত্মক হুমকি।
সামনে পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের আরও চারটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। এই প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বহু নির্বাচন কমিশন দেখেছেন, কিন্তু এমন পক্ষপাতদুষ্ট ও একপেশে আচরণ আগে দেখেননি। তার অভিযোগ, কমিশন রাজ্য সরকারের কাজে অযথা হস্তক্ষেপ করছে, ফলে সাংবিধানিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো দুর্বল হচ্ছে।
মমতার এই মন্তব্য ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী ও শাসক দলের মধ্যে ইতোমধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে।