সারা বিশ্ব

খামেনি ও তার ছেলেকে হত্যার নীলনকশা ট্রাম্পের!

14305_IMG_4352.jpeg

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে একাধিক বিকল্প রয়েছে। তেহরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত না মানে তাহলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার ছেলে মোজতবা খামেনির হত্যাপর পরিকল্পনাও রয়েছে।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এক্সিওজের বরাতে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তেহরান মার্কিন শর্ত না মানলেইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত পুত্র মোজতবা খামেনি এবং শীর্ষ ধর্মীয় নেতৃত্বকে টার্গেট করার পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে।তবে একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন এমন একটি চুক্তিতেও রাজি হতে পারে যেখানে ইরান সীমিত মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যাবে। তবে এতে শর্ত আরোপ করা হবে। যেখানে বলা হবে, পারমাণবিক বোমা তৈরির ‘কোনো সম্ভাব্য পথ’ যেন খোলা না থাকে।

ট্রাম্পের বিকল্প কী?

মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের আসন্ন প্রস্তাবের মানদণ্ড খুবই কঠোর হবে। কারণ তা শুধু ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরের সংশয়বাদীদের নয়, মধ্যপ্রাচ্যের অংশীদারদেরও সন্তুষ্ট করতে হবে। এ মানদণ্ডে স্পষ্ট করতে হবে যে তেহরান সম্পূর্ণভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ ত্যাগ করছে। এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ইরান যদি হামলা ঠেকাতে চায়, তাহলে এমন প্রস্তাব দিতে হবে যা আমরা ফিরিয়ে দিতে পারি না। আরেক উপদেষ্টা দাবি করেন, পেন্টাগন সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এর একটি বিকল্পে ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে সরিয়ে দেওয়ার কথাও রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, খামেনি ও তার পুত্রকে টার্গেট করার পরিকল্পনা কয়েক সপ্তাহ আগে ট্রাম্পের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছিল।

সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা 

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি দ্রুত বাড়ছে। ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পর এই অঞ্চলে এটিই সবচেয়ে বড় মার্কিন সমাবেশগুলোর একটি বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে। ইসরায়েলে সরকারও পরিস্থিতিকে অচলাবস্থার দিকে যাচ্ছে বলে মনে করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যৌথ সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মার্কিন গণমাধ্যমে সপ্তাহান্তে হামলার প্রস্তুতির খবর এলেও ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। এক উপদেষ্টা বলেন, তিনি যেকোনো মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ দুই দফা আলোচনা মূল ইস্যুতে অচলাবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার প্রশ্নে এখনও কোনো সমাধান আসেনি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, উভয় পক্ষ কিছু ‘নির্দেশক নীতিতে’ একমত হয়েছে। তিনি বলেন, কয়েক দিনের মধ্যে একটি খসড়া পাল্টা প্রস্তাব প্রস্তুত হবে। এটি তেহরানের রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনুমোদনের পর যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া হবে।

আরাঘচি বলেন, জেনেভার আলোচনায় ওয়াশিংটন ‘শূন্য সমৃদ্ধকরণ’ দাবি করেনি এবং ইরানও সাময়িকভাবে সমৃদ্ধকরণ স্থগিতের প্রস্তাব দেয়নি। আলোচনার লক্ষ্য হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সমৃদ্ধকরণসহ চিরস্থায়ীভাবে শান্তিপূর্ণ রাখা।

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও