
আর এস ফাহিম দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরে আসার পরই শুরু হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়াতে তীব্র আলোচনা-সমালোচণা। এরই মাঝে ফেসবুকে নিজের প্রোফাইলে এক পোস্ট দিয়ে আগুনে ঘী ঢেলে দিলেন মোহাম্মদপুরের সাবেক বিতর্কিত কাউন্সিলর রাজীব।
পাঠকদের জন্য পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো,
ফাহিম,
তুই আমার আপনজনের মতোই ছিলি। অনেক সময় তো আপনজনের চেয়েও বেশি কাছের। আমি রাস্তায় নামলে তুই আর তাহমিদ পাশে দাঁড়াতি, প্রটোকল দিতি, আগলে রাখতি। সেই দিনগুলা এখনো চোখের সামনে ভাসে।
তুই মালয়েশিয়ায় ছিলি, সেই সময় হোটেলের সব খরচ থেকে শুরু করে তোর যাবতীয় খরচ আমি বহন করলাম। একবারও কি মনে হয়নি, এই মানুষটার ওপর ভরসা করা যায়? এত কিছু করার পরও আজকে তুই এমন পথে হাঁটছিস, যেটা দেখে প্রশ্ন জাগে—আমার জায়গাটা তোর কাছে কোথায় গেল?
আজ দেখছি তুই এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিচ্ছিস, যেগুলো নিয়ে চিন্তা না করে পারছি না। মানুষের আশ্বাসে ভরসা করে দেশে গিয়ে নিজের কপালে ঝামেলা ডেকে আনছিস। রাজনীতি আর মিডিয়ার খেলাটা সহজ না। এখানে হাসিমুখের আড়ালে হিসাব থাকে।
তুই কার ওপর ভরসা করছিস, সেটা ভালো করে ভাব। আশেপাশে যারা আছে, সবাই নিজের হবে এমন না। স্বার্থের জায়গায় মানুষ দ্রুত বদলায়। আজ পাশে থাকবে, কাল প্রয়োজন শেষ হলে চিনবেও না।
হাজ্জাজকে তুই মেয়ে সাপ্লাই দিতি এই কথা সালাউদ্দিন জানলো কিভাবে? তুই কাদের বিশ্বাস করতেছিস, তোর আশেপাশে সবাই বেইমান।
তোর মিডিয়া জগতে কানেকশন ভালো এটা এখন বাইরে চলে আসলো তুই হয়ে উঠলি গরীবের এপ্সটাইন।
এত কাচা কাজ কেন করিস তুই?
২দিন পর ববি তোকে এরেস্ট করিয়ে দিলে নাম হবে ফাহিমস ফাইল!
মিডিয়ায় তোর কানেকশন ভালো, এটা শক্তি। কিন্তু ভুল জায়গায় ব্যবহার করলে সেই শক্তিই বিপদ ডেকে আনে। লোকজন এখন তোর নাম নিয়ে নানা কথা বলছে। গুঞ্জন ছড়ালে কারও কিছু যায় আসে না, কিন্তু যার নাম জড়ায় তার জীবনটাই জটিল হয়ে যায়।
শুনছি তুই ববির মিডিয়া টিমে পি আরের কাজ নিয়েছিস। কাজ করা দোষের না। কিন্তু যদি কালকে কোনো ঝামেলা হয়, তোর পাশে দাঁড়ানোর গ্যারান্টি কে দিবে?
হাসনাত আবদুল্লাহর সাথে তোর কয়েকদিন ভালো সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কগুলো ধরে রাখা উচিত। মোহাম্মদপুরে আসিফ ভাই আছেন, সুযোগ পেলে দেখা করিস। কিছু মানুষ চুপচাপ থাকে, কিন্তু সঠিক সময়ে সঠিক পরামর্শ দেয়।
আরেকটা কথা খোলাখুলি বলি। একদিকে আওয়ামী লীগের লোক পরিচয় দিবি, আরেকদিকে বিএনপির ছেলেদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে মিশবি—এই দ্বৈত অবস্থান শেষ পর্যন্ত কারও জন্যই ভালো হয় না। মাঝামাঝি জায়গা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ।
তুই আমাদের ছিলি, আছিস, থাকবি। কিন্তু যারা আজ তোকে ব্যবহার করছে, তাদের স্বার্থ শেষ হলে তারা তোকে মনে রাখবে কিনা সেটা ভেবে দেখ।
আমি এই কথাগুলো রাগ থেকে বলছি না। বলছি কারণ তোর জন্য চিন্তা করি। তুই যেন অযথা নিজের জীবন আর ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মধ্যে না ফেলিস।