
সিলেট সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক হিসেবে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪-এর ধারা ২৫ক এর উপধারা (১) এর অনুবৃত্তিক্রমে তাদেরকে করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নামের পাশে বর্ণিত সিটি কর্পোরেশনের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।
নিয়োগকৃত প্রশাসকরা সিটি করপোরেশনের মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। তারা বিধি মোতাবেক ভাতা পাবেন। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
সিলেট সিটি করপোরেশনের নতুন প্রশাসক হলেন আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক দপ্তর সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহসভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের রাজনৈতিক সচিব ছিলেন।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ২০২২ সালের ২৯ মার্চ সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ১২ মার্চ পর্যন্ত সিলেটে বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামের সমন্বয়কারী ও সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বে ছিলেন।
বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ছিলেন। তিনি বর্তমানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তবে মনোনয়ন পাননি। এ আসনে দলের মনোনয়ন পান যুক্তরাজ্য বিএনপির সদ্য সাবেক সভাপতি এম এ মালিক। নির্বাচনে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী সিলেট জেলার সব কটি সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রার্থীদের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক খান মো. রেজা-উন-নবীর স্থলাভিষিক্ত হলেন আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৮ অগাস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৯ অগাস্ট দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়রদের অপসারণ করে প্রশাসক বসানো হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবার স্থানীয় সরকারের নির্বাচন নিয়ে আলোচনা উঠতে শুরু করেছে।