বাংলাদেশ

সরকার ও বিরোধীদলীয় হুইপের কাজ কী?

14360_IMG_4648.jpeg

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংসদ সদস্যদের শপথের মধ্য দিয়ে কার্যকর হয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ। আগামী ১২ই মার্চ সংসদের অধিবেশন ডেকেছেন রাষ্ট্রপতি।

তবে আগের সংসদের স্পিকার পদত্যাগ করেছেন এবং ডেপুটি স্পিকার কারাগারে থাকায় প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব কে করবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই তারেক রহমানকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেছে বিএনপি জোট।

অন্যদিকে, সংসদীয় টিমের বৈঠকে জামায়াত আমির শফিকুর রহমানকে বিরোধীদলীয় নেতা আর এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নির্বাচিত করেছেন।

সংবিধান অনুযায়ী, সরকারি ফলাফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদ অধিবেশন আহ্বানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন আগামী ১২ মার্চ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। সেই অধিবেশনেই স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন। ওই অধিবেশনেই ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

সংবিধান ও জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, পূর্ববর্তী সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার কথা।

বিগত সংসদদের স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারের অবর্তমানে সংসদ অধিবেশন কীভাবে শুরু হবে বা প্রথম অধিবেশনে কে সভাপতিত্ব করবেন, সেটি নিয়েও নানা আলোচনা দেখা যাচ্ছে।

শুরুতেই স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন

স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে গত ১৭ই ফেব্রুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুসরণ করে সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করান।

বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ অন্যান্য নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথবাক্য পাঠ করেন। ওই দিন বিকেলে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, আগামী মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে জাতীয় সংসদের অধিবেশন বসবে। ওই অধিবেশনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করা হবে।

সরকার ও বিরোধীদলীয় হুইপের কাজ কী?

জাতীয় সংসদে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদের পর গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদ সরকারি ও বিরোধী দলের চিফ হুইপ বা হুইপ পদ।

চিফ হুইপ হলেন সংসদে সরকারি দলের মুখপাত্র। চিফ হুইপের সঙ্গে কয়েকজন হুইপও থাকেন। তাদের সবাই সংসদ সদস্যের মধ্যেই নির্বাচিত হয়ে থাকেন। চিফ হুইপ ও হুইপের প্রধান কাজ সংসদে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা করা।

সংসদবিষয়ক গবেষকেরা বলছেন, হুইপের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে— নিজ দলের সদস্যদের পার্লামেন্ট বা আইনসভায় নিয়মিত হাজির করার ব্যবস্থা করা, সংসদে কোনো বিল উত্থাপিত হলে দলীয় সব সদস্য যেন দলের পক্ষে ভোট দেন তা নিশ্চিত করা কিংবা সদস্যরা কোন বিষয়ের ওপর কতক্ষণ বক্তব্য দেবেন, তার সময়সীমা নির্ধারণ করা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যরা ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণ করেছেন। শপথগ্রহণের দিন সরকারি দল মন্ত্রিসভা গঠন করেছে।

একই দিন সংসদেই জামায়াত-এনসিপি জোটের সংসদ সদস্যরা শপথবাক্য পাঠ করেন। পরে বিরোধী জোটের বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানকে বিরোধীদলীয় নেতা, জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে বিরোধী দলীয় উপনেতা এবং এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নির্বাচন করা হয়।

অধ্যাপক মহিউদ্দিন বলেন, আইন অনুযায়ী চিফ হুইপ ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার পদটি একজন পূর্ণ মন্ত্রীর পদমর্যাদার। এতে বিরোধীদলীয় নেতা একজন পূর্ণ মন্ত্রীর সমান সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করা হলেও সংসদ উপনেতা কিংবা সরকারদলীয় চিফ হুইপ পদ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও