
অস্ট্রিয়ায় ধর্ষণের দায়ে দণ্ডিত এক আফগান নাগরিক ব্রিটেনে আশ্রয় পাওয়ার ঘটনায় তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। হোম অফিসের একাধিক ত্রুটির কারণে ওই ব্যক্তি যুক্তরাজ্যে অনির্দিষ্টকালের জন্য বসবাসের অনুমতি পান বলে জানা গেছে।
৩১ বছর বয়সী ওমর আলি নুরি ২০১৮ সালে অস্ট্রিয়ার লিনৎস শহরে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন। পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান এবং পরের বছর ব্রিটেনে পৌঁছান। তার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ ও দণ্ড থাকার পরও ২০২৩ সালে ব্রিটিশ হোম অফিস তাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বসবাসের অনুমতি দেয়। আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পরবর্তীতে তার ২৩ বছর বয়সী স্ত্রীও ব্রিটেনে তার সঙ্গে যোগ দেন।
নথিপত্রে আরও প্রকাশ পেয়েছে, নুরি চারটি ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করেছেন এবং সরকারি কাগজপত্রে পাঁচটি আলাদা জন্মতারিখ দিয়েছেন। প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত শুনানিতে বিচারক নীতা মিনহাস তাকে “পলাতক” হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, নুরিকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল তিনি কোনো দেশে অপরাধ করেছেন কি না বা কোনো দেশে আটক হয়েছেন কি না। কিন্তু তিনি উভয় প্রশ্নের উত্তরে ‘না’ বলেন, যা স্পষ্টতই সঠিক ছিল না। বিচারক রায় দেন যে তাকে সাজা ভোগের জন্য অস্ট্রিয়ায় প্রত্যর্পণ করা হবে।
বর্তমানে নুরি Wandsworth Prison কারাগারে আটক রয়েছেন এবং তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
হোম অফিসের এক মুখপাত্র বলেন, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নতুন তথ্যের ভিত্তিতে যদি প্রমাণিত হয় যে প্রতারণা, ভুয়া তথ্য বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে অভিবাসন সুবিধা নেওয়া হয়েছে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অভিবাসন মর্যাদা পুনর্বিবেচনা করা হয়। তিনি আরও বলেন, বিদেশি অপরাধী বা অবৈধ অভিবাসীদের আইনের অপব্যবহার করতে দেওয়া হবে না এবং মানবাধিকার আইন সংস্কার ও আপিল ব্যবস্থা পুনর্গঠনের মাধ্যমে বহিষ্কার প্রক্রিয়া জোরদার করা হচ্ছে।
এ ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই আরেক আফগান আশ্রয়প্রার্থী আহমদ মুলাখিলকে Warwick Crown Court আদালত ১২ বছর বয়সী এক কিশোরীকে অপহরণ, ধর্ষণ ও অশ্লীল ভিডিও ধারণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে। গত জুলাইয়ে নুনিটনে ওই ঘটনা ঘটে। ২৩ বছর বয়সী মুলাখিল প্রথমে দুইটি ধর্ষণ, দুইটি যৌন নিপীড়ন, শিশু অপহরণ এবং অশ্লীল ছবি ধারণের অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ৩৫ হাজারের বেশি আফগান নাগরিক ব্রিটেনে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। এছাড়া আফগান রিলোকেশনস অ্যান্ড অ্যাসিসট্যান্স পলিসি (এআরএপি) এবং আফগান সিটিজেনস রিসেটেলমেন্ট স্কিম (এসিআরএস)-এর মাধ্যমে আরও ৩৭ হাজারের বেশি আফগান নাগরিক দেশটিতে বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন।