যুক্তরাজ্য

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:০২
আরও খবর

যুক্তরাজ্যে স্বামীর যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত জীবন দিলেন স্ত্রী

14366_212.jpg

যুক্তরাজ্যের এক আদালতে শোনা গেছে, স্বামীর দীর্ঘদিনের শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে এক নারী শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন নেন। ৩৪ বছর বয়সী ট্যারিন বেয়ার্ডকে ২০১৭ সালের ২৮ নভেম্বর উইল্টশায়ারের সোয়িনডনে তার বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

উইনচেস্টার ক্রাউন কোর্টে চলমান বিচারে তার স্বামী ৪৩ বছর বয়সী ক্রিস্টোফার ট্রাইবাসের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড, দুটি ধর্ষণ এবং জবরদস্তিমূলক ও নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। ট্রাইবাস সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে বলেন, মৃত্যুর আগের দুই বছরে ট্রাইবাসের আচরণ ক্রমেই সহিংস হয়ে ওঠে। অভিযোগ করা হয়, ২০১৬ সালের শেষ দিকে তিনি স্ত্রীকে দুবার ধর্ষণ করেন। জুরিদের সামনে বেয়ার্ডের ডায়েরির কিছু অংশ পড়ে শোনানো হয়, যেখানে তিনি লেখেন যে এক রাতে যৌন সম্পর্কের সময় স্বামীর হাত তার গলায় অনুভব করেন এবং সেই ঘটনার পর থেকে সম্পর্কের ধরন বদলে যায়। তিনি উল্লেখ করেন, যত বেশি তিনি প্রতিরোধ করেছেন, ততই তা উপভোগ করেছেন তার স্বামী।

আদালতে আরও শোনা যায়, একবার স্কুল ফি পরিশোধ নিয়ে তর্কের জেরে ট্রাইবাস তাকে শ্বাসরোধের চেষ্টা করার পর জোরপূর্বক যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি স্ত্রীর মোবাইল ফোনে একটি অ্যাপ ইনস্টল করে তার গতিবিধি নজরদারি করতেন এবং চিকিৎসকের কাছে কতক্ষণ ছিলেন, তা নিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করতেন।

মৃত্যুর আগে বেয়ার্ড বহুবার চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন এবং স্বামীর সহিংসতার কথা জানান। এক পর্যায়ে তিনি একটি দাতব্য সংস্থাকেও বলেন যে তার গলায় দড়ি পেঁচিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে উল্লেখ করে, শেষ পর্যন্ত তিনি যেভাবে নিজের জীবন নেন, সেটি এই নির্যাতনের ধারাবাহিকতার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

আদালতে বলা হয়, বেয়ার্ড একাধিকবার বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এবং একটি নারী আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পরিকল্পনাও করেছিলেন। কিন্তু ট্রাইবাস আগেভাগে বাড়ি ফিরে আসায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। অভিযোগ আছে, তিনি স্ত্রীকে হুমকি দিয়েছিলেন যে তাকে মাদক ও মদাসক্ত বলে পরিবারের কাছে জানাবেন, যাতে কেউ তার নির্যাতনের অভিযোগ বিশ্বাস না করে।

রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, নির্যাতন ও নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণের ফলে বেয়ার্ডের মানসিক অবস্থা ক্রমেই অবনতির দিকে যায়। তিনি মৃত্যুর আগের মাসগুলোতে একাধিকবার ওষুধের অতিরিক্ত মাত্রা গ্রহণ করেছিলেন। ঘটনার দিন সকালে তিনি মানসিক স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে আত্মহননের ইঙ্গিত দেন এবং পরে পুলিশকে ফোন করে তার বাড়িতে আসতে বলেন। কিছুক্ষণ পর পুলিশ এসে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে।

রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য, দীর্ঘদিনের শারীরিক ও যৌন সহিংসতা এবং ভয়ের পরিবেশ তার মানসিক স্বাস্থ্যের মারাত্মক অবনতি ঘটায়, যা তাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে প্ররোচিত করে। বিচারক লিন্ডেনের আদালতে চলমান এই বিচার সাত সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও