
ইংল্যান্ডের ইস্ট সাসেক্সে অবস্থিত ক্রোবোরো আর্মি ট্রেনিং ক্যাম্পে এসাইলাম প্রার্থীদের আবাসনের সরকারি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দাদের করা হাইকোর্ট চ্যালেঞ্জ খারিজ করে দিয়েছেন বিচারক। শুক্রবারের রায়ে মি. জাস্টিস মোল্ড বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হওয়ার আগেই তা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে, যা ছিল সময়ের আগেই আইনি পদক্ষেপ।
ক্রোবোরো শিল্ড নামে বাসিন্দাদের একটি সংগঠন সরকারি ঘোষণার পর এই আইনি লড়াই শুরু করে। তারা ক্রাউডফান্ডিংয়ের মাধ্যমে এক লাখ পাউন্ডেরও বেশি অর্থ সংগ্রহ করে মামলা দায়ের করে, যখন স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানায় যে ইস্ট সাসেক্সের ক্যাম্পটিতে সর্বোচ্চ ৫৪০ জন পুরুষ আশ্রয়প্রার্থীকে রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। যদিও পরিকল্পনাটি অক্টোবরে আলোচনায় আসে, জানুয়ারিতে প্রথম দফায় ২৭ জনকে সেখানে রাখা হয়।
আদালতে সংগঠনের পক্ষে আইনজীবী যুক্তি দেন যে ক্যাম্পটি প্রস্তুত করার কাজই ছিল সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার অংশ। তবে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের আইনজীবীরা এই আবেদনকে ‘ভ্রান্ত ধারণাভিত্তিক’ ও ‘অকালপ্রসূ’ বলে উল্লেখ করেন। বিচারক তাঁর রায়ে বলেন, মামলা দায়েরের সময় আশ্রয়প্রার্থীদের রাখার বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট নীতিগত সিদ্ধান্ত ছিল না এবং আবেদনটি ছিল অনুমাননির্ভর ও অনেকাংশে কল্পনাপ্রসূত। তিনি মন্তব্য করেন, বাসিন্দারা আগেভাগেই পদক্ষেপ নিয়েছেন। তবে পরবর্তী সময়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর নতুন করে আইনি চ্যালেঞ্জের সুযোগ থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
সংগঠনের পরিচালক কিম বেইলি জানিয়েছেন, এটি কেবল একটি কারিগরি ধাপ এবং তারা নতুন করে চ্যালেঞ্জ দায়ের করবেন। তার ভাষায়, সরকারকে এই ইস্যুতে তারা লড়াই চালিয়ে যাবেন।
ক্যাম্পটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মালিকানাধীন এবং এটি অ্যাশডাউন ফরেস্টের মাত্র ৪০০ মিটার দূরে অবস্থিত। বনাঞ্চলটি বিশেষ সুরক্ষিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত এবং সেখানে ডার্টফোর্ড ওয়ার্বলার, ইউরোপীয় নাইটজার ও গ্রেট ক্রেস্টেড নিউটের মতো সংরক্ষিত প্রজাতির আবাসস্থল রয়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকার গোপন প্রক্রিয়ায় উন্নয়ন অনুমোদন দিয়েছে, যা সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন এবং জরুরি পরিকল্পনা ক্ষমতার অপব্যবহার।
হাইকোর্ট শুনানির আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে সমর্থকরা বলেন, সম্ভাব্য আশ্রয়প্রার্থীদের অনেকেই যুদ্ধ, নির্যাতন বা মানবপাচারের শিকার এবং মানসিক আঘাত বহন করছেন। তাদের সামরিক পরিবেশে, কাছাকাছি পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও উন্মুক্ত শুটিং রেঞ্জের শব্দের মধ্যে রাখা হলে তা পুনরায় মানসিক আঘাতের কারণ হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ওয়েলডেন ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলও এই সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছে। কাউন্সিলের এক মুখপাত্র জানান, তারা শুরু থেকেই এই সাইট ব্যবহারের বিরোধিতা করেছে এবং সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব ও স্থানীয় সম্প্রদায় এবং পরিবেশগত প্রভাব যথাযথভাবে বিবেচনা না করার অভিযোগ তুলেছে। রায়ের পর তারা জরুরি ভিত্তিতে আইনি পরামর্শ নিচ্ছে বলে জানিয়েছে।