বাংলাদেশ

নরসিংদীতে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা: প্রধান আসামি নূরাসহ গ্রেপ্তার ২

14448_IMG_5016.jpeg

নরসিংদীতে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ নূরাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

তথ্যটি নিশ্চিত করে নরসিংদীর পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল ফারুক জানান, নূর মোহাম্মদ নূরাকে গাজীপুরের মাওনা থেকে ও হযরত আলী নামের আরও এক আসামিকে ময়মনসিংহের গৌরিপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বাবার কাছ থেকে অপহরণ করে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এরপর জেলার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের একটি সরিষা খেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ানসহ ৫ জনকে বৃহস্পতিবার রাতে মাধবদীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার জানায়, ১৫ দিন আগে বাসায় ফেরার পথে মেয়েকে জোর করে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। বিচারের আশায় তারা যান স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আহমদুল্লাহর কাছে। কিন্তু বিচার তো মেলেনি উল্টো এলাকা ছেড়ে যেতে বলা হয় তাদের।

ইউপি সদস্যের কাছে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে অভিযুক্তরা। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে মেয়েকে নিরাপদে খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাচ্ছিলেন বাবা। কিন্তু বিলপাড় এলাকায় তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায় নূরার নেতৃত্বে ছয়জন। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে একই এলাকার সরিষা খেতে কিশোরীর মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের পাঠানো হয় সদর হাসপাতালের মর্গে।

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, ধর্ষণের ঘটনায় ৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়েরের পর বৃহস্পতিবার রাতে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

এদিকে, গ্রেপ্তার আহম্মদ আলী দেওয়ানকে ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতির পদ থেকে বহিষ্কার করেছে সদর উপজেলা বিএনপি। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু সালেহ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত দলীয় চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও