সারা বিশ্ব

কে ছিলেন খামেনি?

14476_IMG_3198.webp

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ১৯৮৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি দায়িত্ব নেন ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের মাধ্যমে পাহলভি রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং সেই বিপ্লবের আদর্শিক নেতৃত্বে ছিলেন খোমেনি। তবে বিপ্লব-পরবর্তী রাষ্ট্র কাঠামোকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী সামরিক রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন খামেনি।

সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার আগে খামেনি ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার প্রেসিডেন্সির সময়ই ১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত ইরান-ইরাক যুদ্ধ চলে। এই দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয় এবং দেশ অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। পশ্চিমা দেশগুলো ইরাকের নেতা সাদ্দাম হোসেনকে সমর্থন দেওয়ায় ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে গভীর ক্ষোভ ও অবিশ্বাস জন্ম নেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ওই যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার অভিজ্ঞতা খামেনির দৃষ্টিভঙ্গিতে গভীর প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের প্রতি তার অবিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়। পরবর্তী কয়েক দশক ধরে তার শাসনামলে ইরান নিজেদের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা জোরদারে অগ্রাধিকার দেয়। সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামো শক্তিশালী করা হয় এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের কৌশল গ্রহণ করা হয়।

খামেনির নেতৃত্বে ইরান নিজেকে বহিঃশত্রু ও অভ্যন্তরীণ হুমকির বিরুদ্ধে সর্বদা প্রস্তুত একটি রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার নীতি অনুসরণ করে। তার দীর্ঘ শাসনামলে এই প্রতিরক্ষা-কেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিই রাষ্ট্র পরিচালনার প্রধান ভিত্তি হয়ে ওঠে.
 

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও