
পবিত্র মাহে রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরতে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠন রাজনগর ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ইউকে-এর উদ্যোগে এক বিশেষ আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১ মার্চ রোববার পূর্ব লন্ডনের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান সংগঠনের সভাপতি ময়নুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুকিত ফারুক সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয় ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য সংগঠনের সভাপতি, স্বাধীনতার মাসে দেশের জন্য প্রান বিসর্জনকারী সকল শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন ।
রোজার তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেন মৌলানা সৈয়দ জামাল আহমেদ, তিনি বলেন রমজান মাসের আত্মশুদ্ধি, সংযম ও তাকওয়ার শিক্ষার মাস । রমজান কেবল রোজা রাখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি আত্মসংযম, সহমর্মিতা, ধৈর্য ও মানবিকতার এক অনন্য প্রশিক্ষণ। এ মাসে ইফতার ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে সমাজে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা আরও সুদৃঢ় হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, রাজনগর ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ইউকে প্রতি বছর পবিত্র রমজান মাসে স্থানীয়দের অংশগ্রহণে ইফতার মাহফিল আয়োজনের পাশাপাশি অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে ইফতার সামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য বিতরণ করে থাকে। সংগঠনের এ ধরনের মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগ প্রবাসী সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং নতুন প্রজন্মকে সামাজিক কাজে সম্পৃক্ত হতে উৎসাহিত করছে বলে বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা আবু তাহের চৌধুরী, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের কেবিনেট মেম্বার ফর সেইফার কমিউনিটি কাউন্সিলার আবু তালহা চৌধুরী, আলহাজ্জ ওদুদ আলম, আলহাজ্জ আব্দুল মান্নান, সাবেক সভাপতি, আব্দুল হান্নান তরফদার ,তারাউল ইসলাম ও মাকিনুর রশিদ।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শাহ চেরাগ আলী, ইকবাল হোসেন সাচ্ছু, ওয়ারিছ আলী, শাওন রহমান, জুনায়েদ মালিক শিপু, উজ্জ্বল আহমেদ, হাবিবুর রহমান হাবিব, আরমান আলী ও নেয়ামত খান,জাকির হোসেন জিতু, ময়না মিয়া ময়নুল ইসলাম বুধু, মুজিব মিয়া , তবজূ খান, দুলু চৌধুরী প্রমুখ ।
ইফতার মাহফিলে এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। দল-মত নির্বিশেষে সকলের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলে। বক্তারা বলেন, এ ধরনের আয়োজন সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি এবং প্রবাসীদের সঙ্গে স্থানীয় কমিউনিটির সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সবশেষে দেশ-জাতির কল্যাণ, মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। ভবিষ্যতেও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।