মধ‍্যপ্রাচ্য

খামেনির হত্যার বহু বছর আগেই তার ওপর নজরদারির জন্য, ‘তেহরানের প্রতিটি ট্রাফিক ক্যামেরা হ্যাক করেছিল’ মোসাদ

14512_796741.jpeg

তেহরানের প্রায় সব ট্রাফিক নজরদারি ক্যামেরা হ্যাক করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ayatollah Ali Khamenei-এর চলাফেরা বহু বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করেছে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ—এমনটাই দাবি করেছে Financial Times। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি অপারেটিভরা তেহরানের ট্রাফিক নজরদারি নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশ করে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের গতিবিধি অনুসরণ করত এবং সেই ফুটেজ পাঠানো হতো তেল আবিবে।

সূত্রের বরাতে জানানো হয়, এই নজরদারির মাধ্যমে খামেনির দেহরক্ষীদের বাড়ির ঠিকানা, দৈনন্দিন সময়সূচি এবং তারা কোন কর্মকর্তাদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত—এসব বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জানা যায়, কখন খামেনি তাঁর বাসভবনে থাকার সম্ভাবনা বেশি, নিরাপত্তাকর্মীরা কোথায় গাড়ি পার্ক করেন এবং কীভাবে তারা পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সংগৃহীত গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করে তেহরানের পাস্তুর স্ট্রিটে অবস্থিত খামেনির কম্পাউন্ডের আশপাশে মোবাইল ফোন সেবা ব্যাহত করা হয়, যাতে হামলার সময় তার নিরাপত্তা টিম দ্রুত সাড়া দিতে না পারে। এক ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তা Financial Times-কে বলেন, “আমরা তেহরানকে ঠিক সেভাবেই চিনতাম, যেভাবে জেরুজালেমকে চিনি। যখন কোনো শহরকে নিজের বড় হওয়া রাস্তার মতো চেনা যায়, তখন সামান্য অস্বাভাবিকতাও চোখ এড়ায় না।”

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দীর্ঘমেয়াদি গোয়েন্দা তৎপরতার চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে শনিবার, যখন ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান খামেনির কম্পাউন্ডে দিনের আলোতে বোমা হামলা চালায়। সামরিক ঘাঁটি থেকে সরাসরি উড্ডয়ন করা বিমানগুলো প্রায় ৩০টি নির্ভুলভাবে নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। হামলার পর ধ্বংসস্তূপ থেকে খামেনির মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানানো হয়েছে।

এই হামলা ছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ‘Operation Epic Fury’-এর অংশ। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সামাজিক নেটওয়ার্ক বিশ্লেষণ কৌশল ব্যবহার করে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের আচরণ ও যোগাযোগের ধরন বিশ্লেষণ করা হয়। প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, সংঘাতের শুরুতেই খামেনিকে লক্ষ্যবস্তু করা হলে তার বাঙ্কারে সরে যাওয়ার ঝুঁকি কমবে।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে খামেনির কম্পাউন্ডে একটি সরাসরি বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। হ্যাক করা ট্রাফিক ক্যামেরা ও নিয়ন্ত্রণে নেওয়া মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় যে বৈঠকটি নির্ধারিত সময়েই চলছে। পরে Donald Trumpফক্স নিউজকে বলেন, খামেনি তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সঙ্গে সকালের নাশতায় একত্রিত থাকা অবস্থায় “নিহত হন”। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান সময়সূচির আগেই এগিয়ে রয়েছে এবং সামনে আরও বড় ধরনের পদক্ষেপ আসতে পারে।

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও