
উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে তেহরানের পাল্টা হামলার জবাবে ইরানে হামলা চালিয়েছে কাতার। গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের বিভিন্ন এলাকা লক্ষ্য করে ওই হামলা চালিয়েছে কাতারের সামরিক বাহিনী। কাতারের হামলার বিষয়ে অবগত অজ্ঞাতনামা পশ্চিমা সূত্রের বরাত দিয়ে ইসরায়েলের টেলিভিশন চ্যানেল-১২ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ইরানে কাতারের হামলার পর শিগগিরই দেশটিতে সৌদি আরও হামলা শুরু করতে যাচ্ছে বলে ওই সূত্র জানিয়েছে। ইসরায়েলের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম কান-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলি জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা বলেছেন, গতকাল ইরানের হামলার শিকার হওয়ার পর সৌদি আরবও শিগগিরই দেশটিতে পাল্টা হামলা শুরু করবে বলে ধারণা করছে ইসরায়েল।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আক্রমণাত্মক কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। তবে তাদের মধ্যে কেউ কেউ ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার দাবি জানিয়েছে।
এদিকে, ইরানের সামরিক বাহিনীর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের আঘাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৬৮ জন। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল আব্দুল নাসের আল হুমাইদি।
তিনি বলেছেন, গত কয়েক দিনে ইরান থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে ১৮৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৮১২টি ড্রোন ছোড়া হয়েছে। ইরান থেকে ছোড়া এসব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের বেশিরভাগই লক্ষ্যে আঘাত হানার আগে আকাশে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ছোড়া ১৭২টি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে, ১৩টি সমুদ্রে পড়েছে এবং মাত্র একটি আমিরাতের ভূখণ্ডে আঘাত হেনেছে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে গত চারদিন ধরে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। এই হামলায় দেশগুলোতে অনেকে হতাহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশিও রয়েছেন।