সারা বিশ্ব

প্রফেসর চিয়াংয়ের ভবিষ্যদ্বাণী: ট্রাম্প-ইরান যুদ্ধ ও আমেরিকার সম্ভাব্য পরাজয়ের বিশ্লেষণ

14515_Screenshot 2026-03-03 at 4.01.14 pm.jpeg

জনপ্রিয় প্রফেসর চিয়াং তাঁর 'Predictive History' চ্যানেলের জন্য পরিচিত, যেখানে তিনি গেম থিওরি ব্যবহার করে ভূ-রাজনীতির বিশ্লেষণ করেন।

২০২৪ সালে তিনি তিনটি বড় ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন:

১. ট্রাম্প নির্বাচনে জিতবেন।
২. তিনি ইরানের সাথে যুদ্ধ শুরু করবেন।
৩. আমেরিকা এই যুদ্ধে হেরে যাবে।

কেন আমেরিকা হারতে পারে? প্রফেসর চিয়াংয়ের মতে, ইরান গত ২০ বছর ধরে এই যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা একে একটি 'ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধ' (War of attrition) হিসেবে দেখছে। ইরানের কৌশল হলো সরাসরি আমেরিকার সাথে না লড়ে প্রক্সি (যেমন: হুথি, হিজবুল্লাহ, হামাস) ব্যবহার করে বিশ্ব অর্থনীতিতে আঘাত করা।

অর্থনৈতিক প্রভাব:
ইরান জিসিসি (GCC) দেশগুলোর (সৌদি আরব, ইউএই, কাতার ইত্যাদি) গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, যেমন তেলের খনি এবং পানি শোধনাগার বা ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।

পানি সংকট: সৌদি আরবের রিয়াদের মতো শহরের পানি সরবরাহ মাত্র দুই সপ্তাহ বন্ধ রাখতে পারলেই সেখানে বিপর্যয় নেমে আসবে।

পেট্রোডলার ও এআই (AI): উপসাগরীয় দেশগুলো আমেরিকার অর্থনীতিতে প্রচুর বিনিয়োগ করে। যদি তারা তেল বিক্রি করতে না পারে, তবে আমেরিকার এআই বুদবুদ এবং সামগ্রিক অর্থনীতি ধসে পড়তে পারে।

অস্ত্র ও প্রযুক্তিগত অসমতা:
আমেরিকার সামরিক সরঞ্জামগুলো ঠান্ডা লড়াইয়ের যুগের জন্য তৈরি, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, ইরান একটি ৫০ হাজার ডলারের ড্রোন পাঠালে তা ধ্বংস করতে আমেরিকা লক্ষ লক্ষ ডলারের ইন্টারসেপ্টর মিসাইল খরচ করছে। এই ধরনের খরচ দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়।

স্থল যুদ্ধের সম্ভাবনা:
ইন্টারভিউতে বলা হয়, আমেরিকার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরানের মাটিতে সৈন্য পাঠানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। প্রফেসর চিয়াং মনে করেন, শুধু আকাশপথের হামলায় সরকার পরিবর্তন সম্ভব নয়, তাই ভবিষ্যতে স্থল অভিযানের চাপ বাড়বে। যদিও মার্কিন জনগণের এতে সমর্থন নেই, তবুও ট্রাম্প ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থে এই পথে হাঁটতে পারেন।

সৌদি আরব ও ইসরায়েলের ভূমিকা:
প্রফেসর মনে করেন, সৌদি আরব এবং ইসরায়েল উভয়ই ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন চায়। সৌদি আরবের জন্য ইরান একটি অস্তিত্বের সংকট। রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্রাম্পকে এই যুদ্ধে উৎসাহিত করার পেছনে তাদের বড় ভূমিকা থাকতে পারে।

ট্রাম্পের ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য:
প্রফেসর তিনটি কারণ দেখিয়েছেন কেন ট্রাম্প এই যুদ্ধ করছেন:

১. অহংকার (Hubris): আগের কিছু ছোট সাফল্যে তিনি অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন।
২. ব্যক্তিগত বিনিয়োগ: সৌদি আরব ও ইসরায়েলি লবি থেকে ট্রাম্পের পরিবার বড় ধরনের বিনিয়োগ ও আর্থিক সুবিধা পেয়েছে।
৩. জরুরি ক্ষমতা: যুদ্ধের দোহাই দিয়ে তিনি জরুরি অবস্থা জারি করে তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করতে পারেন।

গোপন সোসাইটির প্রভাব:
প্রফেসর চিয়াংয়ের একটি বিতর্কিত মত হলো, বিশ্বের ক্ষমতাধর কিছু গোপন গোষ্ঠী (যেমন: ইলুমিনাতি বা ফ্রিম্যাসন) মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধকে একটি স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, যা তাদের ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের সাথে যুক্ত।

পরিশেষে তিনি বলেন, এই যুদ্ধের ফলে আমেরিকার একচ্ছত্র আধিপত্য (Hegemony) শেষ হবে এবং পৃথিবী একটি 'মাল্টিপোলার' বা বহুমুখী বিশ্বের দিকে এগিয়ে যাবে।
 

Watch Full Video: youtu.be/4Ql24Z8SIeE

 

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও