সারা বিশ্ব

ইরানে ট্রাম্পের হামলা নিয়ে ব্রিটিশদের আপত্তি, জরিপে মিলল ভিন্ন চিত্র

14517_Screenshot 2026-03-03 at 5.27.19 pm.jpeg

ইরানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হামলা নিয়ে যুক্তরাজ্যে তীব্র বিতর্কের মধ্যে নতুন এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ ব্রিটিশ নাগরিক এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করছেন। গবেষণা সংস্থা ইউগভ পরিচালিত এক জরিপে অংশ নেওয়া নাগরিকদের ৪৯ শতাংশ বলেছেন, তারা ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিপক্ষে। বিপরীতে ২৮ শতাংশ এই সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন।

৪ হাজার ১৩২ জন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর চালানো ওই জরিপে আরও জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র যদি মধ্যপ্রাচ্যে হামলার জন্য ব্রিটেনের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের ঘাঁটি ব্যবহার করে, তাতেও আপত্তি রয়েছে জনমতের বড় অংশের। ৫০ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা লক্ষ্য করে সীমিত হামলা হলেও ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া উচিত নয়। মাত্র ৩২ শতাংশ এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। একই সঙ্গে ৪৫ শতাংশ মনে করেন, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রকাশ্যে প্রশংসা বা নিন্দা—কোনোটিই করা উচিত নয়।

প্রথম দফার হামলায় ব্রিটেন তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। তবে পরে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার প্রতিরক্ষামূলক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য সীমিত আকারে ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেন। এ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং যুক্তরাজ্যের অবস্থানকে হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেন।

পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার বলেন, যুক্তরাজ্য “আকাশপথে শাসন পরিবর্তন” নীতিতে বিশ্বাস করে না। তিনি ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের আগে আইনি ভিত্তি ও সুস্পষ্ট কৌশল থাকা জরুরি। তবে তিনি এটিও জানান, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা তার সরকারের প্রথম দায়িত্ব। এ কারণে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থায় সহযোগিতা করা হয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, অঞ্চলটি থেকে ব্রিটিশ নাগরিকদের সরিয়ে নিতে আকাশ, স্থল ও সমুদ্রপথে বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে এক লাখের বেশি নাগরিক সরকারের কাছে নিজেদের অবস্থান নিবন্ধন করেছেন। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হতে পারে বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ সহায়তা দলও পাঠানো হচ্ছে।

দলভিত্তিক সমর্থনের ক্ষেত্রেও পার্থক্য দেখা গেছে। রিফর্ম পার্টির সমর্থকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, যেখানে লেবার, গ্রিন ও লিবারেল ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের মধ্যে সমর্থন তুলনামূলকভাবে অনেক কম। রিফর্ম নেতা নাইজেল ফারাজ প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পদক্ষেপকে আরও জোরালোভাবে সমর্থন করা উচিত ছিল।

সব মিলিয়ে জরিপে স্পষ্ট হয়েছে, ইরান ইস্যুতে ব্রিটিশ জনমত গভীরভাবে বিভক্ত হলেও সামগ্রিকভাবে ট্রাম্পের সামরিক অভিযানের প্রতি বিরোধিতাই প্রাধান্য পাচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও