
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে স্পেন তাদের যৌথ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেবে না, মাদ্রিদের এমন ঘোষণার পর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। স্পেন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন ও বিদ্যমান চুক্তির বাইরে কোনো সামরিক অভিযানে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করা যাবে না। এর জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকি দিয়েছেন।
স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোসে মানুয়েল আলবারেস স্পেনীয় পাবলিক টেলিভিশনে বলেন, তার কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে স্পেনের ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে না এবং ভবিষ্যতেও করা যাবে না। তিনি স্পষ্ট করেন, রোটা নৌঘাঁটি ও মোরোন বিমানঘাঁটি যৌথ ব্যবহারের আওতায় থাকলেও সেগুলো স্পেনের সার্বভৌমত্বের অধীন এবং জাতিসংঘ সনদ বা দ্বিপাক্ষিক চুক্তির বাইরে কোনো কার্যক্রমে অনুমতি দেওয়া হবে না।
প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলাকে ‘অযৌক্তিক’ ও আন্তর্জাতিক আইনের বাইরে ‘বিপজ্জনক সামরিক হস্তক্ষেপ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর নিন্দা জানিয়েছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিতা রব্লেস বলেন, মানবিক প্রয়োজন ছাড়া এসব ঘাঁটি থেকে কোনো সামরিক সহায়তা দেওয়া হবে না। স্পেন একই সঙ্গে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলারও সমালোচনা করেছে।
ফ্লাইট-ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, হামলা শুরুর পর দক্ষিণ স্পেনের ঘাঁটি থেকে একাধিক মার্কিন বিমান উড্ডয়ন করেছে, যার কয়েকটি জার্মানির রামস্টেইন বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে। তবে মাদ্রিদ দাবি করছে, এসব কার্যক্রম ইরান হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়।
স্পেনের এই অবস্থানে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, স্পেন “খুবই জঘন্য আচরণ” করেছে এবং এ কারণে তিনি মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারিকে স্পেনের সঙ্গে “সব ধরনের লেনদেন বন্ধ” করার নির্দেশ দিয়েছেন। ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্র স্পেনের সঙ্গে সব বাণিজ্য বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে এবং ভবিষ্যতে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সংকটকে কেন্দ্র করে এই ঘটনাপ্রবাহ ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন তৈরি করেছে। ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণ ও ঘাঁটি ব্যবহারের প্রশ্নে ভিন্নমত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যা ন্যাটো জোটের ভেতরেও প্রভাব ফেলতে পারে।