সারা বিশ্ব

ইরান যুদ্ধে হুতিরা যে কারণে এখনই যোগ দিচ্ছে না

14567_image_271649_1772716362.jpeg

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধে ইয়েমেনের হুতি আন্দোলন আগে হোক বা পরে হোক তেহরানের সমর্থন জানাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, কিন্তু যুদ্ধে জড়ালে কখন আর কী মাত্রায় যুক্ত হবে নির্ভর করছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েলের যুদ্ধ কোন দিকে মোড় নেয় তার ওপর।

পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি হুতিরা সিদ্ধান্ত নেয় তাদের প্রধান সমর্থনদাতা ইরান পিছিয়ে পড়ছে বা অস্তিত্বের হুমকির মুখে পড়েছে তাহলে সম্ভবত তারা এ সামরিক সংঘাতে জড়াবে।

এডেন আল-গাদ সংবাদপত্রের সম্পাদক ফাতেহি বিন লাজরেক মিডল ইস্ট আইকে বলেছেন, হুতিরা এখনও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে আর ইরান যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে তার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেবে। তারা যদি স্থির হয়ে যে এটি ইরানের শাসনের জন্য অস্তিত্বগত হুমকি, তাহলে তারা এই যুদ্ধে পুরোপুরি যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে।

নিবার ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলা শুরু হওয়ার পর প্রথম বক্তব্যে হুতি আন্দোলনের নেতা আব্দুল মালিক আল-হুতি অস্বাভাবিক সংযত স্বরে কথা বলেন, নিজ ভাষণের জ্বালাময়ী ধরন এড়িয়ে যান। তেহরানের প্রতি জোরালো সর্মথন জানালেও স্পষ্টভাবে সামরিক সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থেকে বিরত থাকেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হওয়ার কথা ঘোষণার পর হুতি ফের তুলনামূলক সংক্ষিপ্ত বিবৃতি দেন। তিনি ইরানি জনগণের প্রতি সমবেদনা জানান। এ সময়ও সামরিক পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দেওয়া থেকে বিরত থাকেন তিনি।

হুতিরা নিজেদের প্রতিরোধের অক্ষ নামে পরিচিত একটি জোটের অংশ হিসেবে দেখে। এটি ইরানপন্থি আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর একটি জোট। এই জোটে আছে লেবাননের হিজবুল্লাহ, ফিলিস্তিনের হামাস এবং ইরাকের বেশ কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী। বিদ্রোহীদের হাতে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পতন হওয়ার আগ পর্যন্ত সিরিয়াও এই জোটের অংশ ছিল।

এর প্রতিপক্ষরা দীর্ঘ দিন ধরে হুতি আন্দোলনকে ইরানের ছায়া বাহিনী হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। তেহরানের কাছ থেকে পাওয়া ড্রোন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক উপদেষ্টা সমর্থন হুতিদের সক্ষমতা বহুলাংশে বাড়িয়ে তুলেছে।

বছরের পর বছর ধরে ইয়েমেনের সরকারগুলো হুতিদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশটিতে অস্থিরতায় ইন্ধন দেওয়ার জন্য ইরানকে দায়ী করে আসছিল। হুতিরা সীমান্ত পেরিয়ে সৌদি আরবে হামলা চালালে তার জন্যও ইরানকে দায় দেওয়া হয়েছিল।

লাজরেক জানান, হুতিরা বুঝতে পেরেছে ইরানের ইসলামিক শাসনের পতন হলে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে, এতে দেশের অভ্যন্তরের প্রতিদ্বন্দী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে পাওয়া কৌলশগত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারে তারা।

লাজরেক বলেন, হুতিরা বিশ্বাস করে যদি ইরানের শাসনের পতন হয়, তারা উন্মুক্ত হয়ে পড়বে। কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের শক্তির মূল উপাদান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

মিডল ইস্ট আই লিখেছে, কট্টরপন্থিদের চাপ সত্ত্বেও গোষ্ঠীটি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিকভাবে গুরুতর প্রতিক্রিয়া এড়াতে সতর্কতার সঙ্গে তাদের করণীয় নির্ধারণ করছে বলে মনে হচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও