
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে সৌদি আরবের রিয়াদ শহরের অদূরে মার্কিন ঘাটির কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার সৌদিপ্রবাসী বাচ্চু মিয়া (৪০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। নিহতের সংবাদে এলাকায় মাতম চলছে। নিহত বাচ্চু মিয়া উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ফেকামারা গ্রামের রইছ উদ্দিনের ছেলে।
জানা যায়, রোববার ইফতারেরে আগে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ শহরের অদূরে আল খারিজ শহরে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির কাছে আল তোয়াইক বলদিয়া কোম্পানির একটি শ্রমিক ক্যাম্পের ওপর মিসাইল হামলা হলে তিনিসহ কয়েকজন নিহত হন। সৌদি আরবে বাচ্চু মিয়ার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা আফরোজ মারলিজ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, সমাজসেবা কর্মকর্তা আবুল খায়ের, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আজিজুল হক ও জালালপুর ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম নিহতের বাড়িতে ছুটে যান। এ সময় পরিবারটিকে সরকারিভাবে বিভিন্ন সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
বাচ্চু মিয়া দেশে কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন। সংসারের আর্থিক সচ্ছলতা আনার জন্য আট বছর আগে ধারদেনা করে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।
নিহতের স্ত্রী জোৎস্না আক্তার জানান, ‘সামনের কোরবানির ঈদে তিনি দেশে আসবেন বলে জানিয়েছিলেন। সর্বশেষ রোববার বিকেলে ঘটনার কয়েক মিনিট আগে মোবাইল ফোনে আমার সাথে কথা বলেন। কথা বলার সময় তাকে খুবই উদ্বিগ্ন মনে হয়েছে। তাড়াতাড়ি করে ইফতার এবং ছেলেমেয়েদের কথা জিজ্ঞেস করে ফোন রেখে দেন। তিনি আগে কখনো এভাবে কথা বলেননি। আজ কেন উদ্বিগ্ন মনে হলো জানার জন্য মুঠোফোনে তার সঙ্গে আবারও কথা বলার চেষ্টা করি। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। তার মুঠোফোন বন্ধ। অনেক চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি । এতে বাড়িতে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা বাড়তে থাকে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে সৌদি আরব থেকে সহকর্মী বিল্লাল মিয়া তার আরেক সহকর্মী কিশোরগঞ্জের সুজন মিয়ার কাছে নিহত হওয়ার ঘটনা জানান। সুজনের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে আমরা দিশাহারা হয়ে পড়ি। সরকারের কাছে দাবি, দ্রুত স্বামীর লাশ যেন দেশে আনার ব্যবস্থা করে দয়।’
তিনি আরো জানান, তাদের তিন সন্তান। দুই মেয়ে ও এক ছেলে। ছোট মেয়ে প্রতিবন্ধী। ধারদেনা করে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন তিনি। এখনো সেই ঋণ পরিশোধ হয় নাই। এতিম সন্তানদের নিয়ে কীভাবে চলবে?
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, ঘটনার পর তাৎক্ষণিক তার পরিবারকে নগদ ১৫ হাজার টাকা আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে। তার ঘর সংস্কারের জন্য দুই বান টিনও দেওয়া হবে। লাশ দেশে আনার যাবতীয় প্রক্রিয়া সরকারিভাবে নেওয়া হচ্ছে। নিহতের পরিবারকে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হবে।