
যুক্তরাজ্যের University of Kent-এ প্রাণঘাতী মেনিনজাইটিস প্রাদুর্ভাবের পর শিক্ষার্থীদের জন্য জরুরি টিকাদান কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। ক্যান্টারবেরি এলাকায় “ইনভেসিভ” মেনিনজাইটিসে আক্রান্তের সংখ্যা ১৩ থেকে বেড়ে ১৫ জনে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের একজন ২১ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং অপরজন Queen Elizabeth's Grammar School-এর ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী জুলিয়েট।
স্বাস্থ্য সচিব Wes Streeting এই পরিস্থিতিকে “অভূতপূর্ব প্রাদুর্ভাব” এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল বলে উল্লেখ করেছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কেন্টের বিশ্ববিদ্যালয় হলগুলোতে বসবাসরত প্রায় ৫,০০০ শিক্ষার্থীকে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মেনিনজাইটিস বি টিকা দেওয়া হবে, যাতে সংক্রমণের বিস্তার প্রতিরোধ করা যায়।
এদিকে, চারটি স্কুলেও সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে এবং শত শত মানুষকে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হচ্ছে। সারা দেশে আতঙ্কের কারণে অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক ব্যক্তিগতভাবে টিকা নেওয়ার চেষ্টা করছেন, তবে ফার্মেসিগুলো জানিয়েছে যে তাদের কাছে টিকার মজুদ প্রায় শেষ হয়ে গেছে।
আক্রান্তদের মধ্যে ২১ বছর বয়সী কিলি গুডউইন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ধারণা করা হচ্ছে, Club Chemistry নামের একটি নাইটক্লাব থেকে এই সংক্রমণের সূত্রপাত হয়েছে। অসুস্থ হওয়ার আগে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, এখনও তার মাথাব্যথা ও শরীরে ব্যথা রয়েছে এবং খিঁচুনির কারণে মুখে আঘাত পেয়েছেন। তার মা বলেন, মেয়েটি হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়েছিল এবং কিছুই বুঝতে পারছিল না, এমনকি কথা বলা বা দেখা সম্ভব হচ্ছিল না।
যুক্তরাজ্য স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা UK Health Security Agency জানিয়েছে, ১৫টি ঘটনার মধ্যে অন্তত চারটি মেনিনজাইটিস বি হিসেবে নিশ্চিত হয়েছে। এই ধরনের সংক্রমণ যুক্তরাজ্যে সবচেয়ে সাধারণ হলেও ২০১৫ সালের আগে নিয়মিত টিকাদান চালু না থাকায় বর্তমান তরুণ প্রজন্মের অনেকেই এই সুরক্ষার বাইরে রয়েছে।
প্রায় ৩০,০০০ মানুষকে ইতোমধ্যে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং পরিস্থিতিকে “অস্বাভাবিকভাবে বড়” প্রাদুর্ভাব হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এটি কোভিড-১৯-এর মতো দ্রুত ছড়ায় না, বরং দীর্ঘ সময় ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকলে সংক্রমণ ছড়ায়।
যেসব স্কুলে সংক্রমণ ধরা পড়েছে তার মধ্যে রয়েছে Norton Knatchbull School, Highworth Grammar School এবং Simon Langton Grammar School for Boys। এর মধ্যে একটি স্কুল জানিয়েছে, তাদের একজন শিক্ষার্থী সন্দেহজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস আপাতত খোলা থাকলেও আগামী কয়েক দিনের সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা অ্যান্টিবায়োটিক নেওয়ার জন্য সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষা করছে, এবং অনেকেই আতঙ্কে ক্যাম্পাস ছেড়ে বাড়ি ফিরছে।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যারা ৫ থেকে ৭ মার্চের মধ্যে Club Chemistry-তে গিয়েছিলেন, তাদের দ্রুত প্রতিরোধমূলক চিকিৎসার জন্য এগিয়ে আসতে বলা হয়েছে। এছাড়া ক্যান্টারবেরির বিভিন্ন স্থানে, যেমন Kent and Canterbury Hospital ও অন্যান্য নির্ধারিত কেন্দ্রে অ্যান্টিবায়োটিক সরবরাহ করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তবে সংক্রমণের অস্বাভাবিক গতি উদ্বেগজনক। প্রয়োজন হলে টিকাদান কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করা হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।