
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর পক্ষ থেকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer-কে বারবার সমালোচনার জবাবে কনজারভেটিভ পার্টির নেতা Kemi Badenoch তা “শিশুসুলভ” বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে তিনি এই মন্তব্যগুলোকে “সম্পূর্ণ ভুল” বলেও অভিহিত করেন।
একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় ব্যাডেনক বলেন, তিনি নিজে স্টারমারের কঠোর সমালোচক হলেও হোয়াইট হাউস থেকে আসা বক্তব্যগুলো গ্রহণযোগ্য নয়। তার মতে, এ ধরনের বিষয় প্রকাশ্যে না এনে আড়ালে আলোচনা করা উচিত ছিল।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পশ্চিমা জোটের ভেতরে মতবিরোধ প্রকাশ পাওয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভুল বার্তা দিচ্ছে, বিশেষ করে যখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট Volodymyr Zelensky ব্রিটেন সফরে রয়েছেন। ব্যাডেনকের ভাষায়, এই ধরনের বিভক্তি ইরান বা রাশিয়ার মতো প্রতিপক্ষ দেশগুলোর কাছে দুর্বলতার সংকেত পাঠাতে পারে।
এর আগে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থানের প্রতি যথেষ্ট সমর্থন দেখাচ্ছেন না স্টারমার। তিনি বলেন, ব্রিটেন যদি আগে থেকেই সামরিক সহায়তা দিত, তবে তা আরও কার্যকর হতো। এমনকি তিনি মন্তব্য করেন, স্টারমার “উইনস্টন চার্চিল নন”, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
তবে যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের এই দাবি অস্বীকার করা হয়েছে। সরকার সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে নৌবাহিনী পাঠানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাডেনকের এই মন্তব্য তার আগের অবস্থান থেকে কিছুটা ভিন্ন। আগে তিনি ট্রাম্পের নেতৃত্বের ধরনকে প্রশংসা করেছিলেন এবং ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পাশে থাকার কথা বলেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ব্রিটিশ জনগণ ইরান সংঘাতে জড়াতে অনাগ্রহী, যা তার অবস্থান পরিবর্তনের পেছনে প্রভাব ফেলতে পারে।
এই পরিস্থিতি পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার গুরুত্বকে নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে, যেখানে যুক্তরাজ্য একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ জনমত ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার দিকটিও বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে।