
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন। শুক্রবার তার কথায় ছিল নরম সুর। এরপর ইরানি তেল পরিবহনের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, সামরিক অভিযান ‘গুটিয়ে আনার’ পথ খুঁজছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের বিশাল সামরিক প্রচেষ্টাকে গুটিয়ে আনার কথা ভাবছি আমরা। কারণ, আমাদের লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।’
ট্রাম্পের এ বার্তার কিছুক্ষণ পরই হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ও পেন্টাগন আগেই আভাস দিয়েছিল যে এ মিশন সফল করতে প্রায় ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ লাগতে পারে।’
এদিকে ইরান যুদ্ধ যতটা সহজ ভেবেছিল যুক্তরাষ্ট্র, ততটাই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধের আঁচ পড়তে শুরু করেছে পশ্চিমা দেশগুলোর অর্থনীতিতেও। যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি বিষয়টি স্বীকার না করলেও ইরানের তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে তারা।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ৩০ দিনের জন্য ইরানের অপরিশোধিত তেল এবং পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কথা জানিয়েছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, এই সাময়িক অনুমোদন শুধু নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা সেসব তেলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, যেগুলো ইতিমধ্যে পরিবহনের পথে রয়েছে। নতুন কোনো ক্রয়াদেশের জন্য না।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং দামের ক্ষেত্রে বড় ধাক্কা লেগেছে। এই সংকট কাটাতেই যুক্তরাষ্ট্র সিদ্ধান্তটি নিয়েছে।