
গাজার সৈকতে পরীক্ষার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় স্কুল-কলেজ ধ্বংস হওয়ায় সমুদ্রের পাড়ে পরীক্ষা দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজা উপত্যকার একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে শিক্ষার্থীদের সমুদ্রসৈকতে বসে পরীক্ষা দিতে দেখা যাচ্ছে। ভিডিওটির সঙ্গে আবেগঘন বার্তা যুক্ত করে দাবি করা হয়, ইসরায়েলি হামলায় স্কুল-কলেজ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীরা সৈকতে পরীক্ষা দিচ্ছে।
অনেক ব্যবহারকারী লিখেছেন, স্কুল ধ্বংস হয়েছে, কিন্তু শিক্ষার প্রতি গাজার শিক্ষার্থীদের অদম্য ইচ্ছাশক্তি ভাঙা যায়নি। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে রীতিমতো ভাইরাল হয়ে পড়েছে। এর ফলে নেটিজেনরা ভিডিওটিতে ব্যাপক সহানুভূতি জানিয়েছেন।
আলজাজিরা জানিয়েছে, যাচাই করে দেখা গেছে, ভিডিওটি বিভ্রান্তিকর প্রেক্ষাপটে ছড়ানো হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, ভিডিওটি নতুন নয়। এটি ২০২৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি গণিত পরীক্ষার সময় ধারণ করা হয়েছিল। অর্থাৎ, বর্তমানে যে পরিস্থিতির কথা বলে এটি প্রচার করা হচ্ছে, তার সঙ্গে ভিডিওটির সময়কাল মেলে না।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যে অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি পুনরায় শেয়ার করা হয়েছে, সেটিও গাজার স্থানীয় কোনো বাসিন্দার নয়। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বর্তমানে গাজায় কোনো পরীক্ষার আয়োজন করা হচ্ছে বলে গাজার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
আলজাজিরা জানিয়েছে, এটি ‘ভুল প্রেক্ষাপটে সঠিক তথ্য ব্যবহার’ তথা মিসইনফরমেশন হিসেবে ছড়ানো হচ্ছে। অর্থাৎ, ভিডিওটি বাস্তব হলেও সেটি ভিন্ন সময়ের এবং ভিন্ন পরিস্থিতির, যা বর্তমান ঘটনার সঙ্গে মিলিয়ে প্রচার করা হয়েছে।
তবে এই বিভ্রান্তিকর প্রেক্ষাপট বাস্তবতার আরেকটি কঠিন দিককে তুলে ধরেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলমান সংঘাতে গাজায় শত শত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়েছে, হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নিহত হয়েছেন এবং লক্ষাধিক শিক্ষার্থী শিক্ষাব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।