যুক্তরাজ্য

১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:০৪
আরও খবর

যুক্তরাজ্যে ১১টি অ্যাসাইলাম হোটেল বন্ধ হচ্ছে

15056_009f012a-a1a4-4fd1-b043-61993ad756f1.jpeg

যুক্তরাজ্যের হোম অফিস আগামী সপ্তাহে ১১টি অ্যাসাইলাম হোটেল বন্ধের ঘোষণা দিতে যাচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য, পার্লামেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সব অ্যাসাইলাম হোটেল ধাপে ধাপে বন্ধ করা।

কোভিড-১৯ সময় থেকে অ্যাসাইলাম আবেদনকারীদের হোটেলে রাখার বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। অনেক জায়গায় হোটেলের সামনে বিক্ষোভ হয়েছে, যেখানে কিছু প্রতিবাদকারী দাবি করেছেন তারা বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ২০০টি হোটেলে প্রায় ৩০ হাজার অ্যাসাইলাম আবেদনকারী রয়েছেন। এছাড়া আরও ৭০ হাজারের বেশি মানুষ শেয়ারড বাসা বা সাবেক সামরিক ব্যারাকে থাকছেন।

কিছু বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেয়। ২০২৪ সালের আগস্টে রদারহ্যামে একদল বিক্ষোভকারী একটি হোটেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করে, যেখানে অ্যাসাইলাম আবেদনকারীরা অবস্থান করছিলেন। শরণার্থী সহায়তাকারী সংস্থাগুলো বলছে, দীর্ঘমেয়াদে হোটেল উপযুক্ত আবাসন নয়। সংসদীয় এক তদন্তে এই ব্যবস্থাকে “ব্যর্থ, বিশৃঙ্খল এবং ব্যয়বহুল” বলা হয়েছে।

এই সপ্তাহে হোম অফিস একটি গোপন বৈঠকের আয়োজন করছে, যেখানে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ আবাসন সরবরাহকারীরা অংশ নেবেন। নতুন চুক্তি ২০২৯ থেকে ২০৩৬ পর্যন্ত চলবে, যা ২০৩৯ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। প্রায় ১০ বিলিয়ন পাউন্ডের এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হোটেল নির্ভরতা কমানো।

তবে নতুন চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। কিছু সূত্র বলছে, এতে ঠিকাদারের সংখ্যা বাড়তে পারে এবং খরচ আরও বেড়ে যেতে পারে।

এদিকে, অ্যাসাইলাম আবাসনের খরচ মেটাতে বৈদেশিক সহায়তা বাজেট ব্যবহার করায় সমালোচনা হচ্ছে। ২০২৫ সালে এই খাতে ব্যয় কমে ২.৪ বিলিয়ন পাউন্ড হলেও, এতে আন্তর্জাতিক মানবিক প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

হোম অফিস জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসন নিরুৎসাহিত করা এবং যাদের থাকার অধিকার নেই তাদের ফেরত পাঠানোর অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তাদের দাবি, গত এক বছরে হোটেলে থাকা মানুষের সংখ্যা প্রায় ২০% কমেছে এবং আগের সরকারের সময়ের তুলনায় ৪৫% কমে খরচও প্রায় ১ বিলিয়ন পাউন্ড কমেছে।

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও