কানাডা

কানাডায় প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ডলি বেগম

15063_IMG_0239.jpeg

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক ডলি বেগম দেশটির ফেডারেল রাজনীতিতে প্রথমবারের মত এমপি নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। টরোন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসন থেকে লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে উপনির্বাচনে জয়লাভ করে তিনি এ ইতিহাস গড়েন। এই জয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি-এর নেতৃত্বাধীন লিবারেল পার্টি কানাডার সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।

কানাডায় আজ স্থানীয় সময় সোমবার (১৩ এপ্রিল) তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ফেডারেল উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আজকের এই উপনির্বাচনের মধ্যে দিয়ে ক্ষমতাসীন দল লিবারেল পার্টি অফ কানাডা কে সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠনের সুযোগ পাচ্ছে।

এই উপনির্বাচনগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছে অন্টারিওর ইউনিভার্সিটি- রোসডেল ও স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট এবং কুইবেকের তেরেবোন আসনে। বর্তমান পরিস্থিতিতে লিবারেলদের মাত্র একটি আসনে জয়ের প্রয়োজন ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি’ এর জন্য আজকের উপ-নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কেননা সংখ্যাগরিষ্ঠতায় এখন তার সরকারের আইন পাস করা অত্যন্ত সহজ হবে এবং নীতিনির্ধারণে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ থাকবে। এতে করে আগামী নির্ধারিত সাধারণ নির্বাচন ২০২৯ সাল পর্যন্ত স্থিতিশীলভাবে সরকার পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

আজকের উপ-নির্বাচনের আগে পর্যন্ত লিবারেলরা বর্তমানে পার্লামেন্টে ১৭১টি আসন নিয়ে এগিয়ে ছিল। সম্প্রতি কনজারভেটিভ দলের এমপি মেরিলিন গ্লাডু দল পরিবর্তন করে লিবারেল দলে যোগ দেওয়ায় তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছিল।

অন্যদিকে এ উপ-নির্বাচনের ফলাফলে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগমের জয়ের মধ্য দিয়ে লিবারেল পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা পরিস্কার হয়েছে। বর্তমানে লিবারেল পার্টির আসন সংখ্যা মোট ১৭৪টি।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক ডলি বেগম এমপি নির্বাচিত হওয়ার পূর্বে গত বছর দেশটির অন্টারিও প্রাদেশিক পার্লামেন্টের নির্বাচনে এমপিপি পদে তৃতীয়বারের মতো বিজয়ী হয়েছিলেন। তখন তিনি টরন্টোর স্কারবরো সাউথওয়েস্ট নির্বাচনী আসন থেকে নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন।

এর আগে, ডলি বেগম ২০১৮ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে প্রথম এবং ২০২২ সালে দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হয়েছিলেন। কানাডার তিন স্তরের সরকার পদ্ধতির কোনো আইন পরিষদে তিনিই প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নিউ ডেমোক্র্যাট।

চলতি বছরের শুরুতে দীর্ঘদিনের লিবারেল দুর্গ হিসেবে পরিচিত স্কারবরো সাউথওয়েস্ট নির্বাচনী আসনটি সাবেক মন্ত্রী বিল ব্লেয়ারের বিদায়ের পর কার্যত শূন্য হওয়ায় ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টির হয়ে মনোনয়ন পেয়েছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম।

ডলি বেগম তার আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে লিবারেল দলে যোগ দেয়ার কারণ হিসেবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির দূরদর্শী নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি গত সাত বছর ধরে স্কারবরো সাউথ-ওয়েস্টের মানুষের জন্য লড়াই করেছি। তবে দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে আমার মনে হয়েছে, আরও শক্তিশালী ও স্বাধীন অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ার জন্য কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কাজ করা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বে আমি সেই লক্ষ্য অর্জন করতে চাই।’

তিনি জানান, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা এবং কানাডাকে একটি ঐক্যবদ্ধ ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ নিতে তিনি প্রস্তুত।

কানাডার স্কারবরো সাউথওয়েস্ট আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ডলি বেগমকে অভিনন্দন জানিয়েছেন দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ডলি বেগমের এই বিজয় তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, নেতৃত্ব এবং জনগণের প্রতি প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। তিনি উল্লেখ করেন, ডলি বেগম তার কমিউনিটির উন্নয়নে দৃঢ়ভাবে এবং কার্যকরভাবে লড়াই করে আসছেন।

কার্নি আরও বলেন, ডলি বেগমের অক্লান্ত কণ্ঠস্বর, অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্ব ভবিষ্যতে একটি শক্তিশালী ও আরও ন্যায়ভিত্তিক কানাডা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, ডলি বেগমের বাড়ি বাংলাদেশের মৌলভীবাজারের মনু নদের পাড়ে। বাবা রাজা মিয়া এবং মা জবা বেগমের হাত ধরে মাত্র ১২ বছর বয়সে পাড়ি জমান কানাডায়। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক শেষ করে তিনি লন্ডনের বিশ্বখ্যাত ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল) থেকে উন্নয়ন প্রশাসন ও পরিকল্পনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও