যুক্তরাজ্য

২০ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:০৪
আরও খবর

যুক্তরাজ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনপন্থি শিক্ষার্থীর ওপর গোপন নজরদারি

15140_IMG_0875.jpeg

ফিলিস্তিনপন্থি শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারি চালাচ্ছে যুক্তরাজ্যের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়। এজন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বেসরকারি সংস্থাকে। অর্থের বিনিময়ে তারা শিক্ষার্থীদের ওপর গোয়েন্দা কার্যক্রম চালাচ্ছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) আল জাজিরা ও লিবার্টি ইনভেস্টিগেশনের এক যৌথ অনুসন্ধানে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দ্বারা পরিচালিত হরুস সিকিউরিটি কনসালটেন্সি লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে এ কাজের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা শিক্ষার্থী ও একাডেমিকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ করে এবং গোপন ‘কাউন্টার-টেরর’ ঝুঁকি মূল্যায়ন তৈরি করেছে।

অন্তত এক ডজন বিশ্ববিদ্যালয় ২০২২ সাল থেকে এ কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এজন্য সংস্থাটিকে ৪৪ লাখ পাউন্ড পরিশোধ করা হয়েছে। ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে আমন্ত্রিত এক ফিলিস্তিনি অধ্যাপক এবং লন্ডন স্কুল অব ইকোনোমিকসের গাজাপন্থি এক পিএইচডি শিক্ষার্থীর ওপর তারা নজরদারি চালিয়েছে।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট সংগ্রহ করে দৈনিক রিপোর্ট তৈরি করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সরবরাহ করে আসছে নিয়োগ দেওয়া প্রতিষ্ঠানিটি। এজন্য জন্য মাসে প্রায় ৯০০ পাউন্ড পর্যন্ত ফি পরিশোধ কররে আসছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

তদন্তে জানা গেছে, ইউনিভার্সিটি অব ব্রিস্টল ২০২৪ সালের অক্টোবরে বিভিন্ন ছাত্র আন্দোলনকারী গ্রুপ বিশেষ করে ফিলিস্তিনপন্থি প্যালেস্টাইন ও প্রাণী অধিকার সংগঠন সম্পর্কে তথ্য পেতে এই সংস্থাকে তালিকা সরবরাহ করে। এছাড়া ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ড. ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন, ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন, কিংস কলেজ লন্ডন, ইউনিভার্সিটি অব শেফিল্ড, ইউনিভার্সিটি অব লেসেস্টার, ইউনিভার্সিটি অব নটিংহাম এবং কারডিফ মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ও একই ধরনের সেবা নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত তথ্য ব্যবহার করে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি চিহ্নিত করতে এই পরিষেবা গ্রহণ করেছে। এটি শিক্ষার্থীদের ওপর সরাসরি নজরদারি নয়। জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক জিনা রোমিও এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারকে ‘গভীর আইনি উদ্বেগের বিষয়’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এভাবে বিপুল শিক্ষার্থীর তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এদিকে যুক্তরাজ্যের শিক্ষক সংগঠন ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড কলেজ ইউনিয়ন এই ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়েছে। তারা বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারিতে বিপুল অর্থ অপচয় করছে।

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও