
যুক্তরাজ্যে লাইভ ফেসিয়াল রিকগনিশন (এলএফআর) প্রযুক্তির বিরুদ্ধে দায়ের করা আইনি চ্যালেঞ্জ খারিজ করে দিয়েছে আদালত। এর ফলে সরকার দেশজুড়ে এই প্রযুক্তি চালুর পরিকল্পনা আরও জোরদার করেছে। লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ ইতোমধ্যে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসছে।
এই মামলাটি করেন যুবকর্মী শন থম্পসন এবং নাগরিক অধিকার সংগঠন বিগ ব্রাদার ওয়াচ-এর পরিচালক সিলকি কার্লো। তাদের অভিযোগ ছিল, এই প্রযুক্তি ভুলভাবে মানুষকে শনাক্ত করতে পারে এবং বৈষম্যমূলক আচরণের ঝুঁকি তৈরি করে।
তবে আদালতের বিচারপতি লর্ড জাস্টিস হোলগেট এবং মিসেস জাস্টিস ফার্বে রায়ে বলেন, পুলিশের নীতিমালা যথেষ্ট পরিষ্কার এবং এতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ নেই। তারা আরও বলেন, বৈষম্যের অভিযোগ যথেষ্ট শক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়নি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর এই প্রযুক্তির সাহায্যে অন্তত ৮০১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রায় ৩০ লাখ মানুষের মধ্যে খুব অল্পসংখ্যক ভুল শনাক্তকরণ ঘটেছে এবং এর ফলে কাউকে ভুলভাবে গ্রেপ্তার করা হয়নি। মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মার্ক রাউলি জানান, এই প্রযুক্তি দ্রুত ও নির্ভুলভাবে অপরাধী শনাক্ত করতে সহায়তা করে এবং সময় ও অর্থ সাশ্রয় করে।
সরকারের পক্ষ থেকে পুলিশিং মন্ত্রী সারা জোন্স বলেন, “নিরাপত্তা ছাড়া প্রকৃত স্বাধীনতা সম্ভব নয়। এই প্রযুক্তি কেবলমাত্র অপরাধীদের শনাক্ত করার জন্য ব্যবহৃত হবে, সাধারণ নাগরিকদের ভয়ের কিছু নেই।”
তবে সমালোচকরা এই প্রযুক্তিকে “স্টপ অ্যান্ড সার্চের আরও কঠোর সংস্করণ” বলে উল্লেখ করেছেন। শনাক্তকরণে ভুলের শিকার হওয়ার দাবি করে থম্পসন বলেন, তাকে ভুলভাবে আটক করা হয়েছিল এবং তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার পরিকল্পনা করছেন।
এদিকে এসেক্স পুলিশ একসময় এই প্রযুক্তির ব্যবহার স্থগিত করেছিল, কারণ এক গবেষণায় দেখা যায় এটি ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে ভিন্নভাবে কাজ করতে পারে। পরে অ্যালগরিদম আপডেট করার পর পুনরায় ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
বর্তমানে ১৩টি পুলিশ বাহিনী এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে এবং সরকার জানিয়েছে ভবিষ্যতে এটি আরও বিস্তৃতভাবে প্রয়োগ করা হবে।