যুক্তরাজ্য

২২ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:০৪
আরও খবর

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে কৃষ্ণাঙ্গ শিশুদের ওপর পুলিশের তল্লাশিতে বৈষম্য উদ্বেগজনক

15165_IMG_1222.jpeg

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে শিশুদের ওপর পুলিশের স্ট্রিপ সার্চ নিয়ে প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জাতিগত বৈষম্যের গুরুতর চিত্র উঠে এসেছে। Rachel de Souza–এর নেতৃত্বাধীন চিলড্রেনস কমিশনারের দপ্তর থেকে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্বেতাঙ্গ শিশুদের তুলনায় কৃষ্ণাঙ্গ শিশুরা প্রায় আট গুণ বেশি স্ট্রিপ সার্চের শিকার হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে যেখানে মোট ৮৫৪টি স্ট্রিপ সার্চ হয়েছিল, ২০২৪ সালের প্রথমার্ধের তথ্য বিশ্লেষণ করে অনুমান করা হয়েছে যে পুরো বছরে এ সংখ্যা কমে প্রায় ৩৭৭-এ দাঁড়াবে—যা প্রায় ৫৬% হ্রাস নির্দেশ করে। তবে এই ইতিবাচক পরিবর্তনের মধ্যেও বৈষম্য রয়ে গেছে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী জনসংখ্যার মাত্র ৬% কৃষ্ণাঙ্গ হলেও, স্ট্রিপ সার্চ হওয়া শিশুদের মধ্যে ৩৫% কৃষ্ণাঙ্গ। এছাড়া কৃষ্ণাঙ্গ শিশুরা শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি পুলিশের বলপ্রয়োগের শিকার হয়।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত অন্তত ২৬টি স্ট্রিপ সার্চ জনসমক্ষে করা হয়েছে এবং ২২টি ক্ষেত্রে কোনো উপযুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক উপস্থিত ছিল না—যা গুরুতর নিয়ম লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত।

এছাড়া প্রায় ৩০% ক্ষেত্রে একই শিশুকে একাধিকবার স্ট্রিপ সার্চ করা হয়েছে, যা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

National Police Chiefs’ Council (NPCC) জানিয়েছে, তারা স্টপ অ্যান্ড সার্চ পদ্ধতি নিয়ে নতুন নির্দেশিকা প্রণয়ন করছে, যাতে শিশুদের প্রতি আরও সংবেদনশীল ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা যায়। সংস্থাটি বলেছে, এই ধরনের তল্লাশি অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর অপব্যবহার জনসাধারণের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

এই তদন্তের পটভূমিতে রয়েছে Child Q case, যেখানে ২০২০ সালে লন্ডনের একটি স্কুলে ১৫ বছর বয়সী এক কৃষ্ণাঙ্গ ছাত্রীকে অন্যায়ভাবে স্ট্রিপ সার্চ করা হয়েছিল। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদ হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

সার্বিকভাবে, প্রতিবেদনে স্ট্রিপ সার্চের সংখ্যা কমলেও জাতিগত বৈষম্য, অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ এবং শিশুদের অধিকার রক্ষায় ঘাটতির বিষয়গুলোকে গভীর উদ্বেগের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও