
যুক্তরাজ্যের ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের বহু পরিবার অজান্তেই বেশি কাউন্সিল ট্যাক্স পরিশোধ করছে, এমনই সতর্কবার্তা দিয়েছে অর্থ সাশ্রয় বিষয়ক প্রতিষ্ঠান মানিসেভিংএক্সপার্ট (MSE)। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা মার্টিন লুইস জানিয়েছেন, সহজ কিছু যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে অনেকেই তাদের বার্ষিক ট্যাক্স বিল উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারেন, এমনকি পূর্বের অতিরিক্ত অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগও রয়েছে।
কাউন্সিল ট্যাক্স মূলত স্থানীয় পরিষেবাগুলোর জন্য নেওয়া হয়, যেমন পুলিশিং, বর্জ্য সংগ্রহ এবং লাইব্রেরি পরিচালনা। সাধারণত ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী যেকোনো ব্যক্তি, যিনি বাড়ির মালিক বা ভাড়াটিয়া, তাকে এই ট্যাক্স দিতে হয়। তবে এই ট্যাক্সের পরিমাণ নির্ভর করে সম্পত্তির নির্ধারিত ‘ব্যান্ড’-এর ওপর, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে ভুল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবি করেছে এমএসই।
মার্টিন লুইস তার সাম্প্রতিক বার্তায় বলেন, ১৯৯৩ সালে তাড়াহুড়ো করে এই ট্যাক্স ব্যবস্থা চালু করার ফলে এতে অনেক ত্রুটি রয়ে গেছে, যার প্রভাব এখনো বহাল আছে। এর ফলে একই ধরনের বাড়ির জন্য প্রতিবেশীদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন হারে ট্যাক্স নির্ধারণের ঘটনাও দেখা যায়।
এমএসইর পরামর্শ অনুযায়ী, প্রথমেই নিজের বাড়ির ট্যাক্স ব্যান্ড সঠিক কিনা তা যাচাই করা জরুরি। অনলাইনে সরকারি রেকর্ড দেখে প্রতিবেশীদের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। যদি দেখা যায় কাছাকাছি একই ধরনের বাড়ি কম ব্যান্ডে রয়েছে, তবে তা চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে, কারণ এতে প্রতিবেশীর ব্যান্ডও বাড়তে পারে।
এছাড়াও বিভিন্ন ছাড়ের সুযোগ রয়েছে, যা অনেকেই জানেন না। বাড়িতে কারা থাকেন তার ওপর নির্ভর করে ২৫ শতাংশ থেকে শুরু করে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পাওয়া সম্ভব। একা বসবাসকারী ব্যক্তি, শিক্ষার্থী, মানসিকভাবে গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তি (SMI) কিংবা পরিচর্যাকারীদের জন্য আলাদা সুবিধা রয়েছে। আবার কোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য বাড়িতে বিশেষ পরিবর্তন করা থাকলে ট্যাক্স ব্যান্ড এক ধাপ কমানো যেতে পারে।
দ্বিতীয় বাড়ির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ছাড় পাওয়া যায়, বিশেষ করে যদি কাজের কারণে অন্যত্র থাকতে হয়। তবে এই সুবিধা দেওয়া হবে কিনা এবং কতটুকু দেওয়া হবে, তা নির্ধারণ করে স্থানীয় কাউন্সিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রেই এই ছাড়গুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয় না, তাই নিজ উদ্যোগে আবেদন করতে হয়। সঠিক তথ্য যাচাই করে দ্রুত পদক্ষেপ নিলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব।