যুক্তরাজ্য

৬ মে ২০২৬, ১৪:০৫
আরও খবর

যুক্তরাজ্যে স্থানীয় নির্বাচনের আগে রিফর্ম ইউকে নিয়ে বিতর্ক: প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্নের মুখে ফারাজের দল

15312_838b67834a2a987a7ec17837c5cf2853Y29udGVudHNlYXJjaGFwaSwxNzIxODMxNDgx-2.76796489 Medium.jpg

স্থানীয় নির্বাচনের ঠিক আগে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে নাইজেল ফারাজের দল রিফর্ম ইউকে। বিভিন্ন প্রার্থীর অতীত মন্তব্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা পোস্ট এবং বিতর্কিত মতামত প্রকাশ্যে আসার পর দলটির প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, রিফর্ম ইউকের কিছু প্রার্থী বর্ণবাদী, উগ্র বা ষড়যন্ত্রমূলক মন্তব্যের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অথচ সম্প্রতি ফারাজ নিজেই দাবি করেছিলেন, তাদের দলের প্রার্থী যাচাই প্রক্রিয়া অন্যান্য দলের তুলনায় আরও কঠোর ও কার্যকর। কিন্তু সাম্প্রতিক তথ্য-প্রমাণ সেই দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করা হচ্ছে।

এসেক্সে প্রার্থী স্টুয়ার্ট প্রায়রের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সামাজিক মাধ্যমে শ্বেতাঙ্গদের ‘সর্বোচ্চ জাতি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং মুসলিম ও কৃষ্ণাঙ্গদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। যদিও তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে দলটি।

হ্যাম্পশায়ারের জর্জ পারনেলের নাম ফাঁস হওয়া একটি ব্রিটিশ ন্যাশনাল পার্টি (বিএনপি) তালিকায় পাওয়া গেলে রিফর্ম ইউকে তাকে বহিষ্কার করে। প্রথমে তিনি স্বীকার করেছিলেন যে অল্প সময়ের জন্য ওই দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তবে পরে বক্তব্য পরিবর্তন করেন। একই তালিকায় নাম আসা আরও কয়েকজন প্রার্থী, যেমন জন ব্ল্যাক ও ডেভিড প্রায়রকেও দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া কিছু প্রার্থীর মন্তব্য জনমনে উদ্বেগ তৈরি করেছে। চিকিৎসক অ্যাঙ্গাস ডালগ্লিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি কোভিড ভ্যাকসিনের সঙ্গে রাজপরিবারের সদস্যদের ক্যানসারের সম্পর্ক রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। যদিও দলটি দ্রুত এ ধরনের বক্তব্য থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিয়েছে।

ল্যাঙ্কাশায়ারের অ্যান্ড্রু মাহনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ইতিহাসের কুখ্যাত ফ্যাসিস্ট নেতা অসওয়াল্ড মোসলির প্রশংসা করেছেন এবং বহুসাংস্কৃতিক সমাজব্যবস্থাকে ব্যর্থ বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে ব্র্যাডফোর্ডের ড্যানিয়েল ডেভানি মুসলিমদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার পর ক্ষমা চেয়েছেন, তবে দাবি করেছেন তিনি বর্ণবাদী নন।

ওয়েলসে প্রার্থী এমা ক্ল্যাটওয়ার্থির ক্ষেত্রেও অতীতে ষড়যন্ত্রমূলক তত্ত্ব ছড়ানো এবং রাজতন্ত্র নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। তিনি জানান, সেসব মন্তব্য বহু বছর আগের এবং বর্তমানে তার অবস্থান ভিন্ন।

এই ঘটনাগুলো সামনে আসার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রিফর্ম ইউকের প্রার্থী যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। ভোটারদের আস্থা অর্জনের ক্ষেত্রে এ ধরনের বিতর্ক দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সূত্র: Mirror

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও