যুক্তরাজ্য

৭ মে ২০২৬, ১২:০৫
আরও খবর

ইংল্যান্ডের স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দিতে কি ছবি সংবলিত পরিচয়পত্র নেয়া বাধ্যতামূলক?

15329_news.jpg

ইংল্যান্ডে ৭ মে অনুষ্ঠিত স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দিতে হলে ভোটারদের অবশ্যই বৈধ ছবি সংবলিত পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে হবে। তবে স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে স্কটিশ পার্লামেন্ট বা সেনেড নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো পরিচয়পত্র দেখানোর প্রয়োজন হবে না।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে হলে সঙ্গে বৈধ ফটো আইডি নিতে হবে। যদিও ভোটার কার্ড বা পোলিং কার্ড সঙ্গে নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়, তবে এটি থাকলে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হতে পারে।

ইংল্যান্ডের স্থানীয় নির্বাচনে ২০টিরও বেশি ধরনের পরিচয়পত্র গ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, বয়স্ক বা প্রতিবন্ধীদের বাস পাস, অয়েস্টার ৬০+ কার্ড এবং আর্মড ফোর্সেস ভেটেরান কার্ড। মেয়াদোত্তীর্ণ ফটো আইডিও ব্যবহার করা যাবে, যদি ছবির সঙ্গে ভোটারের বর্তমান চেহারার মিল থাকে।

যেসব ভোটার মুখ ঢেকে রাখেন, যেমন চিকিৎসাজনিত মাস্ক বা ধর্মীয় কারণে পরিধান করা নেকাব, তাদের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য সাময়িকভাবে মুখমণ্ডল দেখাতে বলা হতে পারে।

সরকার জানিয়েছে, আগামী সাধারণ নির্বাচনে যুক্তরাজ্যে ইস্যুকৃত নামসংবলিত ব্যাংক কার্ডও পরিচয় যাচাইয়ের জন্য ব্যবহার করা যাবে।

যাদের কাছে গ্রহণযোগ্য পরিচয়পত্র নেই বা ভোটের দিন আইডি হারিয়ে যায় কিংবা চুরি হয়ে যায়, তারা বিকেল ৫টা পর্যন্ত জরুরি প্রক্সি ভোটের আবেদন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে ভোটার এবং তার মনোনীত প্রতিনিধি—উভয়কেই আগে থেকেই ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত থাকতে হবে এবং প্রতিনিধির কাছে বৈধ ফটো আইডি থাকতে হবে।

ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য ভোটাররা কাগুজে ড্রাইভিং লাইসেন্স বদলে ফটোকার্ড নিতে পারবেন। এছাড়া ৬০ বছরের বেশি বয়সী, প্রতিবন্ধী বা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা ফটোযুক্ত ট্রাভেল পাসের আবেদন করতে পারবেন। যাদের কোনো গ্রহণযোগ্য আইডি নেই বা ছবির সঙ্গে চেহারার মিল নেই, তারা বিনামূল্যে ‘ভোটার অথরিটি সার্টিফিকেট’-এর জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে ৭ মে নির্বাচনের জন্য এ আবেদন করার সময়সীমা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

সঠিক পরিচয়পত্র ছাড়া ভোটকেন্দ্রে গেলে ভোটারকে ফেরত পাঠানো হবে এবং পরে বৈধ আইডি নিয়ে আবার আসতে হবে। যদি কেউ মনে করেন তার পরিচয়পত্র অযৌক্তিকভাবে বাতিল করা হয়েছে, তাহলে তিনি ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ জানাতে পারবেন। সমস্যার সমাধান না হলে সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলের রিটার্নিং অফিসারের কাছেও অভিযোগ করা যাবে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মে ২০২৫ সালের স্থানীয় নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে যাওয়া ভোটারদের মধ্যে মাত্র ০.৪ শতাংশ ভোটার পরিচয়পত্রের কারণে ফেরত গিয়েছিলেন। এর মধ্যে ৭১ শতাংশ পরে বৈধ আইডি নিয়ে ফিরে এসে ভোট দেন।

যুক্তরাজ্যে সাধারণ নির্বাচন ও পার্লামেন্টারি উপনির্বাচনে সরাসরি ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সবার জন্যই ফটো আইডি বাধ্যতামূলক। ইংল্যান্ড ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে অন্যান্য নির্বাচনেও একই নিয়ম কার্যকর রয়েছে। নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে ২০০২ সাল থেকেই ভোটার আইডি ব্যবস্থা চালু রয়েছে।

সরকারের দাবি, এই ব্যবস্থা ভোট জালিয়াতি রোধে সহায়তা করবে, যদিও যুক্তরাজ্যে এ ধরনের ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, গত পাঁচ বছরে বড় ধরনের নির্বাচনী জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগে ১ হাজার ৩১৮টি মামলা পুলিশের কাছে গেলেও মাত্র আটটিতে দণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং তিনজনকে সতর্ক করা হয়েছে।

ভোটারদের পাঠানো পোলিং কার্ডে তাদের ভোট নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের ঠিকানা উল্লেখ থাকে। ভোটাররা শুধুমাত্র নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রেই ভোট দিতে পারবেন, যা আগের নির্বাচনের কেন্দ্রের থেকে ভিন্ন হতে পারে। ভোটগ্রহণ চলবে সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। তবে রাত ১০টার আগে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলে পরে হলেও ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকবে।

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও