
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে ক্রমেই অসন্তুষ্ট হয়ে উঠছেন লেবার পার্টির সদস্যরা। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, দলের অধিকাংশ সদস্যই মনে করেন না যে স্টারমার আবারও দলকে শক্ত অবস্থানে ফিরিয়ে নিতে পারবেন। একই সঙ্গে প্রায় ৪৫ শতাংশ সদস্য মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে তাঁর সরে দাঁড়ানো উচিত।
জরিপে নতুন নেতা হিসেবে সবচেয়ে বেশি সমর্থন পেয়েছেন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। উত্তরদাতাদের ৪২ শতাংশ তাঁকে স্টারমারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নিয়েছেন। জরিপে বার্নহ্যামের জনপ্রিয়তার হারও ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
দলের একাধিক এমপি, বিশেষ করে বার্নহ্যামের ঘনিষ্ঠরা, মনে করছেন স্টারমারের সরে দাঁড়ানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি নির্ধারণ করা প্রয়োজন। তাঁদের মতে, তা হলে সম্মানজনক ও সুশৃঙ্খলভাবে নেতৃত্ব পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হবে এবং বার্নহ্যাম সংসদীয় আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময়ও পাবেন।
স্থানীয় নির্বাচন ও স্কটল্যান্ড, ওয়েলসের নির্বাচনের ঠিক আগে পরিচালিত এ জরিপে লেবারের ভেতরের অসন্তোষ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নির্বাচনে নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন রিফর্ম ইউকে ইংল্যান্ডে শত শত আসনে জয় পায় এবং আরও কয়েকটি কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রণ নেয়। স্কটল্যান্ডে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি টানা পঞ্চমবারের মতো জয় পায়। অন্যদিকে ওয়েলসে প্লেইড কামরি শতবর্ষের লেবার আধিপত্য ভেঙে দেয় এবং লেবারের ফার্স্ট মিনিস্টার এলুনেড মরগানকে পরাজিত করে।
লন্ডনেও লেবারের জন্য পরিস্থিতি সুখকর ছিল না। বিভিন্ন কাউন্সিলে গ্রিন পার্টির সাফল্য স্টারমারের নেতৃত্বের প্রতি প্রগতিশীল ভোটারদের হতাশার ইঙ্গিত দিয়েছে।
এক হাজারের বেশি লেবার সদস্যের অংশগ্রহণে পরিচালিত এ জরিপে দেখা গেছে, ৫১ শতাংশ সদস্য বিশ্বাস করেন না যে স্টারমার আগামী নির্বাচনের আগে দলের জনপ্রিয়তা পুনরুদ্ধার করতে পারবেন। একই সঙ্গে ৩৬ শতাংশ সদস্য জানিয়েছেন, তাঁরা দলীয় সদস্যপদ বাতিল করার কথাও বিবেচনা করছেন।
জরিপ পরিচালনাকারী থিংকট্যাংক কম্পাসের উপপরিচালক লেনা সুইডলো বলেন, ভোটারদের পাশাপাশি এখন লেবার সদস্যরাও স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে জনগণ এমন নেতৃত্ব চায়, যাদের ওপর তারা আস্থা রাখতে পারে।
অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সমর্থকেরা আশা করছেন, স্টারমারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়লে তিনি সরে দাঁড়ানোর সময়সূচি ঘোষণা করতে পারেন। তবে বর্তমানে লেবারের ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটি বার্নহ্যামকে সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অনুমতি দিচ্ছে না। এর আগে গর্টন অ্যান্ড ডেন্টন উপনির্বাচনে অংশ নিতে চাইলেও তাঁকে বাধা দেওয়া হয়েছিল।
ইতোমধ্যে অন্তত ১০ জন লেবার এমপি স্টারমারের সরে দাঁড়ানোর সময়সূচি নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সাবেক পরিবহনমন্ত্রী লুইস হেইগ, নারী ও সমতা বিষয়ক সিলেক্ট কমিটির চেয়ারম্যান সারা ওয়েন এবং নবনির্বাচিত কয়েকজন এমপিও রয়েছেন।