ভারত

নাগরিকত্ব ছাড়াই যুক্তরাজ্যের নির্বাচনে বিজয়ী ভারতীয় অভিবাসী

15367_IMG_2730.jpeg

ভারতীয় বংশোদ্ভূত নৃতত্ত্ববিদ কিউ. মনিভান্নান, যিনি নিজেকে নন-বাইনারি হিসেবে পরিচয় দেন, স্কটল্যান্ডের বিকেন্দ্রীকৃত পার্লামেন্টে নির্বাচিত হয়েছেন। “সহানুভূতিশীল রাজনীতি”র প্রতিশ্রুতি নিয়ে তিনি এই জয় অর্জন করেন।

স্কটিশ গ্রিনস দলের প্রার্থী হিসেবে এডিনবরো ও লোথিয়ানস ইস্ট তালিকা আসনে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি জয়ী হন।

তামিলনাড়ুর এই শিক্ষার্থী স্কটল্যান্ডের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পেরেছেন নিয়ম পরিবর্তনের ফলে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, স্বল্পমেয়াদি ভিসাধারী বিদেশিরাও, এমনকি যাদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি (ILR) নেই, তারাও নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন।

নির্বাচনী প্রচারে মনিভান্নান বলেন,
“একজন কুইয়ার তামিল অভিবাসী হিসেবে আমি এমএসপি হতে চাই, যাতে হলিরুডে যত্ন ও সহমর্মিতার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে পারি। শ্রমজীবী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক পরিবর্তনের লড়াই চালিয়ে যেতে চাই।”

তিনি আরও বলেন,
“আমি এমন এক রাজনীতিতে বিশ্বাস করি, যা অন্তর্ভুক্তিমূলক, মানুষের কথা শোনে এবং সংহতির ভিত্তিতে গড়ে ওঠে। কমিউনিটি সংগঠক, শিক্ষক ও নীতিনির্ধারণ বিশেষজ্ঞ হিসেবে জাতিসংঘ, ট্রেড ইউনিয়ন, স্কটিশ মানবাধিকার সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমাকে ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়াতে শিখিয়েছে।”

মনিভান্নান প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তিনি স্কটিশ পার্লামেন্টে “নতুন সাহসী শক্তি” নিয়ে আসবেন। তিনি বলেন,
“অভিবাসী, আশ্রয়প্রার্থী, বিদেশে থাকা স্কটিশ প্রবাসী কিংবা ফিলিস্তিনিদের মতো নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর পাশে আমি দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে চাই।”

তিনি আরও জানান, এডিনবরো ও লোথিয়ানস ইস্টের সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করাই হবে তাঁর প্রধান লক্ষ্য।

ক্রাউডফান্ডার প্ল্যাটফর্মে অনলাইন তহবিল সংগ্রহের মাধ্যমে তাঁর নির্বাচনী প্রচারের জন্য ১,৬০০ পাউন্ড সংগ্রহ করা হয়। স্কটল্যান্ডের জটিল আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বভিত্তিক নির্বাচনী ব্যবস্থার মাধ্যমে শুক্রবার (৮ মে) তিনি নির্বাচিত হন।

স্কটিশ গ্রিনসের এক মুখপাত্র বলেন,
“স্কটিশ গ্রিনস তাদের রেকর্ড নির্বাচনী ফলাফলে গর্বিত এবং মনিভান্নানের নির্বাচিত হওয়াকে স্বাগত জানায়।”

তিনি আরও বলেন,
“স্কটিশ পার্লামেন্ট সঠিকভাবেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যাতে স্কটল্যান্ডে বসবাসের অধিকার থাকা সবাই, এমনকি ভিসাধারীরাও নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। মনিভান্নান বৈধ ভিসাধারী এবং কমনওয়েলথ নাগরিক।”

মুখপাত্রের মতে,
“যুক্তরাজ্যের বর্তমান ভিসা ব্যবস্থা অপ্রয়োজনীয়ভাবে ব্যয়বহুল ও কঠোর। আমরা এমন একটি ব্যবস্থা চাই, যা মানুষকে বাধা না দিয়ে যত্ন ও স্বাগত জানাবে।”

উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহের স্থানীয় নির্বাচনে স্কটিশ গ্রিনস ও ডানপন্থী রিফর্ম ইউকে উভয় দলই ভালো ফল করেছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম খারাপ পরাজয়ের মুখে পড়েছে।

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও