যুক্তরাষ্ট্র

ভ্যান্স নাকি রুবিও, কে হচ্ছেন ট্রাম্পের উত্তরসূরি

15375_IMG_2805.jpeg

ওভাল অফিসে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় অথবা মার-আ-লাগোর বারান্দায় বসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মাঝেমধ্যেই উদাস হয়ে কোনো একটি বিষয় নিয়ে ভাবতে থাকেন।

এরপর উপদেষ্টাদের কাছে জানতে চান, তারা কাকে বেশি পছন্দ করেন—জেডি নাকি মার্কো?

মাঝে মাঝে বলেন, ২০২৮ সালে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে একই প্রেসিডেন্সিয়াল টিকিটে একসঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করানো উচিত।

তবে ট্রাম্পের উপদেষ্টারা বলেন, তিনি কেবল সবার মতামত নিয়ে মজা করেন। ২০২৮ সালের নির্বাচন তার চিন্তায় মোটেও প্রধান্য পাচ্ছে না। তবে ট্রাম্পের পক্ষে এটা উপেক্ষা করাও কঠিন।

এ সপ্তাহে রুবিও হোয়াইট হাউসের ব্রিফিং রুমে উপস্থিত হয়ে ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দেন। এ নিয়ে রিপাবলিকান পার্টি পরে একটি প্রচারণার উপযোগী ভিডিও তৈরি করে। এরপর তিনি ইতালি সফরে যান, যেখানে পোপ চতুর্দশ লিওর পাশে তাকে দেখা যায় এবং তিনি উপহার হিসেবে একটি ক্রিস্টালের ফুটবল নিয়ে গিয়েছিলেন। রুবিও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সাথেও দেখা করেন। এরপর তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে চীন সফরে যাবেন।

এমন পরিস্থিতিতে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা—রিপাবলিকান দলীয় প্রেসিডেন্ট মনোনয়নের দৌড়ে রুবিও শেষ পর্যন্ত সম্ভাব্য অগ্রগামী ভ্যান্সকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন কি না। ভ্যান্স ও রুবিও দুই বন্ধু ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের জন্য একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হতে চান না বলেই মনে করেন তাদের ঘনিষ্ঠরা। তবে অন্যদের মতে, এ বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ফলাফল কেমন হয় তা দেখার আগে এই প্রতিযোগিতা কোন দিকে মোড় নেবে, তা বলা খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে।

এ বছরের শুরুতে এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স ও রুবিওর সম্পর্ক নিয়ে মিসৌরির রিপাবলিকান সিনেটর এরিক শ্মিট বলেন, ‘এটা এমন একজন প্রেসিডেন্টের ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন, যিনি ক্ষমতার বাইরে ছিলেন এবং ফিরে এসেছেন। আর এটা সম্ভব করেছে একটি অনন্য জোট।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি মনে করি, তাদের ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের পাশাপাশি এ বিষয়টিই তাদের একসঙ্গে কাজ করতে চালিত করে।’

বিভিন্ন সূত্রের মতে, দুজনের মধ্যে আসলেই সদ্ভাব রয়েছে। একসঙ্গে থাকলে তারা খেলাধুলা ও পরিবার নিয়ে কথা বলেন। তারা দুজনেই তাদের খ্যাতি এবং নিজ নিজ ভবিষ্যৎ নিয়ে হওয়া গুঞ্জন সম্পর্কেও বেশ সচেতন।

রুবিও দেশের শীর্ষ কূটনীতিকের ভূমিকার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং প্রায় এক বছর প্রধান আর্কাইভিস্টের কাজও করেছেন।

২০১০ সালের সিনেট নির্বাচনে রুবিওর জন্য প্রচারণায় কাজ করা রিপাবলিকান জরিপকারী হুইট আয়ার্স বলেন, ‘তিনি (রুবিও) শুধু ইংরেজিতেই নন, স্প্যানিশ ভাষায়ও খুব পারদর্শী; ভোটারদের কাছে যুক্তি উপস্থাপন এবং বিশ্বাসযোগ্য বক্তব্য তুলে ধরতে তিনি দক্ষ।’

গত বছর ভ্যানিটি ফেয়ারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, ভ্যান্স নির্বাচনে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলে তিনি সরে দাঁড়াবেন এবং তাকে সমর্থন দেবেন।

তবে মনোনয়ন ভ্যান্সের হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তিনি অজনপ্রিয়; ওয়াশিংটন পোস্ট/এবিসি নিউজ/ইপসোসের সবশেষ জরিপ অনুযায়ী তার জনসমর্থন ৩৫ শতাংশ। তবে এ বছরের শুরুতে পরিচালিত পিউ রিসার্সের জরিপ অনুসারে, ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যদের চেয়ে ভ্যান্স মার্কিন ভোটারদের কাছে অনেক বেশি পরিচিত।

পিউর মতে, ৭৫ শতাংশ রিপাবলিকান ভোটার ভ্যান্সকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেন, যেখানে রুবিওকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেন ৬৪ শতাংশ ভোটার।

তারপরও এমন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে যে ভোটারদের মধ্যে কেউ কেউ রুবিও সম্পর্কে ক্রমশ কৌতূহলী হয়ে উঠছেন।

লংওয়েলের মতে, ‘রুবিওর ভক্তদের মধ্যে অনেকে মনে করেন, যেহেতু তার অনেকগুলো ভিন্ন ভিন্ন কাজ আছে, তাই তিনি নিশ্চয়ই যোগ্য। আরেকটি কারণ হলো, তারা তাকে বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে পরিণত ব্যক্তি হিসেবে দেখেন।’

কিন্তু প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক ভিত্তির উত্তরাধিকারী ভ্যান্স প্রশাসনের একমাত্র ব্যক্তি যিনি ট্রাম্পকে শাসনকার্যে সাহায্য করার পাশাপাশি প্রচারণাও চালাতে পারেন।

ট্রাম্পের সাবেক প্রেস সেক্রেটারি শন স্পাইসার এই সপ্তাহে তার পডকাস্টে ভ্যান্স সম্পর্কে বলেছেন, ‘কিছু কৌশলগত বিষয়ে জেডিকে কোনোভাবেই খাটো করে দেখা যায় না।’ স্পাইসার এবং অন্যান্যদের মতে, সরকারি জালিয়াতি এবং অপচয়মূলক ব্যয় উন্মোচনে ভ্যান্সের চলমান প্রচেষ্টা সেই সব ভোটারের কাছে জনপ্রিয় হবে, যারা তাদের করের অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

তবে কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো ইরান যুদ্ধের রাজনৈতিক ও আর্থিক প্রভাব। যদি মধ্যবর্তী নির্বাচন রিপাবলিকানদের পক্ষে না যায়, তবে ভ্যান্স এমনভাবে ট্রাম্পের নীতি ও সিদ্ধান্তের সঙ্গে আবদ্ধ হয়ে পড়বেন, যা অন্য কোনো সম্ভাব্য প্রার্থীর ক্ষেত্রে হবে না।

যদিও ভ্যান্স ইরানের ওপর হামলা চালানোর বিষয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন, এখন তাকে প্রেসিডেন্টের সেই সিদ্ধান্তের পক্ষ সমর্থন করতে হচ্ছে, যা ভোটারদের কাছে অত্যন্ত অজনপ্রিয় এবং জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

কিন্তু এই দুজনসহ রিপাবলিকান দলের অন্য সবার জন্যই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি জটিল বিষয় হলেন ট্রাম্প।

ভ্যান্সের পূর্বসূরি মাইক পেন্সের চিফ অব স্টাফ মার্ক শর্ট বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট স্বাভাবিকভাবেই একজন ভাইস প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে পূর্ণ আনুগত্য আশা করেন। কিন্তু আমার অভিজ্ঞতা বলে, তিনি তার ভাইস প্রেসিডেন্টকে পরবর্তীকালে রাজনৈতিক সাফল্যের জন্য তেমন কোনো সুযোগ তৈরি করে দেন না।’

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও