
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি পদত্যাগ করছেন না। মঙ্গলবার সকালে অনুষ্ঠিত এক উত্তেজনাপূর্ণ ক্যাবিনেট বৈঠকে তিনি বলেন, লেবার পার্টির নেতৃত্ব পরিবর্তনের জন্য নির্দিষ্ট সাংগঠনিক প্রক্রিয়া রয়েছে এবং এখনো পর্যন্ত সেই প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়নি।
স্টারমার জোর দিয়ে বলেন, দেশের মানুষ সরকারের কাছ থেকে স্থিতিশীলতা ও কার্যকর শাসন প্রত্যাশা করে, নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতা নয়।
স্থানীয় নির্বাচনে ভরাডুবির পর চাপ বেড়েছে
সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের পর স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ তীব্র আকার ধারণ করেছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৮০ জনেরও বেশি লেবার এমপি প্রকাশ্যে তাকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন অথবা অন্তত ক্ষমতা হস্তান্তরের সময়সূচি ঘোষণা করতে বলেছেন।
মন্ত্রিসভায় ভাঙনের ইঙ্গিত
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন জুনিয়র মন্ত্রী মিয়াট্টা ফাহনবুলেহ পদত্যাগ করেন। তিনি স্টারমারকে “সুশৃঙ্খল নেতৃত্ব পরিবর্তনের” উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এছাড়া জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী ইভেট কুপার এবং শাবানা মাহমুদ ব্যক্তিগতভাবে প্রশ্ন তুলেছেন যে স্টারমার আগামী সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত দলকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন কি না।
অন্যদিকে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং-এর ঘনিষ্ঠরা তার বিরুদ্ধে ওঠা “অভ্যন্তরীণ অভ্যুত্থান” বা নেতৃত্ব দখলের চেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
রাজনৈতিক অস্থিরতায় বাজারে প্রভাব
লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ এই সংকট ইতোমধ্যেই আর্থিক বাজারে প্রভাব ফেলেছে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে যুক্তরাজ্যের সরকারি ঋণের সুদহার বেড়েছে এবং ব্রিটিশ পাউন্ডের মান দুর্বল হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
স্টারমার মন্ত্রিসভার সদস্যদের বলেন, গত ৪৮ ঘণ্টার ঘটনাপ্রবাহ “দেশের জন্য এবং সাধারণ পরিবারের জন্য বাস্তব অর্থনৈতিক ক্ষতি” ডেকে আনছে।
এখন কী হতে পারে?
লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, কেবল অসন্তোষ প্রকাশ করলেই নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা শুরু হয় না। আনুষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জ শুরু করতে হলে এমপিদের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় একমত হতে হবে, যা এখনো হয়নি।
ওয়েস্টমিনস্টারে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, ওয়েস স্ট্রিটিংসহ আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে বার্নহ্যাম বর্তমানে এমপি না হওয়ায় তার ক্ষেত্রে কিছু সাংগঠনিক জটিলতা রয়েছে।
সব চাপ সত্ত্বেও ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, স্টারমার প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই দায়িত্ব চালিয়ে যাবেন এবং সরকারের আইন প্রণয়ন কর্মসূচি, বিশেষ করে আসন্ন কিংস স্পিচ, এগিয়ে নেবেন।